
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বরগুনায় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে জোয়ারের পানি। শনিবার (২৬ জুলাই) জেলার পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীতে পানি বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে প্লাবিত হয়েছে সদর ও তালতলীর একাধিক নিম্নাঞ্চল, পানিতে তলিয়ে গেছে বহু বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, শনিবার জোয়ারের পানি ২ দশমিক ৩১ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে, যা বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপরে। এ ছাড়া শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বরগুনায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পানিবৃদ্ধির ফলে প্লাবিত হয় বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা ফেরিঘাট, পোটকাখালী ও কুমড়াখালী আবাসন প্রকল্প, কলেজ রোড, পশু হাসপাতাল সড়ক, চরকলোনি, মাঝের চর, তালতলী উপজেলার নিদ্রা, সকিনা ও শুভ সন্ধ্যা সমুদ্রসৈকতের আশপাশের এলাকা। এসব এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
অপরদিকে, পানি বাড়ার কারণে বড়ইতলা-বাইনচটকি ও আমতলী-পুরাকাটা ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে, ফলে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
তবে পানি বাড়লেও এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। যদিও জেলার বেড়িবাঁধের কিছু অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপরতা চলছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়।