
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতির জন্য এখন থেকে এক দেশের বিরুদ্ধে আরেক দেশ আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে পারবে—জাতিসংঘের শীর্ষ বিচারিক সংস্থা আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) সম্প্রতি এমন এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও এই রায় বাধ্যতামূলক নয়, তবে এর পরিণতি হতে পারে সুদূরপ্রসারী। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য এই রায়কে দেখা হচ্ছে এক ধরনের কূটনৈতিক ও নৈতিক বিজয় হিসেবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী কে, কী পরিমাণ দায় তার, এবং ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ—এসব বিষয় জটিল ও বিতর্কিত হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পরিবেশগত ক্ষতির জন্য দায় নির্ধারণ করা এবং সে বিষয়ে ক্ষতিপূরণ চাওয়া একটি বৈধ আইনি পদক্ষেপ হতে পারে।
এই অভূতপূর্ব আইনি লড়াইয়ের ধারণাটি প্রথম আলোচনায় আসে ২০১৯ সালে, যখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের জলবায়ু-ঝুঁকিতে থাকা একদল তরুণ আইনের শিক্ষার্থী জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য উদ্যোগ নেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা এবং কৃষিজ ক্ষতির মতো প্রভাবের কারণে এসব দেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির দায় নির্ধারণে এই রায় ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণ ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে উন্নত ও কার্বন নিঃসরণে শীর্ষে থাকা দেশগুলো চাপের মুখে পড়তে পারে, যাদের বিরুদ্ধে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।