
ঢাকায় টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির পর বায়ুর মানে দেখা গেছে আশানুরূপ উন্নতি। সোমবার (১৪ জুলাই) সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর বাতাসের একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) স্কোর ছিল মাত্র ৫৪—যা ‘ভালো’ মানের একধাপ দূরে। এই সূচক রাজধানীবাসীর জন্য এক স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে।
এর ঠিক একদিন আগেই, রোববার সকাল ৯টার দিকে ঢাকার একিউআই স্কোর ছিল ১৪৭, যা আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই বিশাল উন্নতি আবহাওয়ার ইতিবাচক পরিবর্তন এবং দূষণকারী উপাদানগুলোর হ্রাসকে নির্দেশ করে।
বিশ্বব্যাপী শহরের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তালিকায় আজ ঢাকার অবস্থান ছিল ৬৪তম। অর্থাৎ, দূষিত শহরের তালিকায় অনেক নিচে নেমে এসেছে নগরীটি। এমন ‘অবনতি’র মাঝেও স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছেন নগরবাসী।
এর আগে, কয়েকদিন ধরে ঢাকার একিউআই স্কোর ‘মাঝারি’ পর্যায়ে থাকলেও বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে স্কোরে এসেছে লক্ষণীয় উন্নতি। সাধারণত, একিউআই স্কোর ৫০-এর নিচে থাকলে তা ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘মাঝারি’, ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীলদের জন্য অস্বাস্থ্যকর’ এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিকে, একই সময় একিউআই সূচকে সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল কঙ্গোর কিনশাসা (স্কোর ১৭৩), দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিল যথাক্রমে ভিয়েতনামের হ্যানয় (১৬৬) এবং চিলির সান্তিয়াগো (১৬৫)। এই শহরগুলোর বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের বায়ুদূষণ উপাদানের ভিত্তিতে: পিএম১০, পিএম২.৫ (বস্তুকণা), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO₂), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂), কার্বন মনো-অক্সাইড (CO), এবং ওজোন (O₃)। এসব উপাদানের মাত্রা কমলে বায়ুমানে উন্নতি ঘটে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে স্ট্রোক, হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের ক্যানসার ও সংক্রমণজনিত অসুস্থতা অন্যতম।
বায়ুমান উন্নত হওয়ায় ঢাকাবাসীর শ্বাস নিতে যেমন সুবিধা হবে, তেমনি জনস্বাস্থ্যেও কিছুটা স্বস্তি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই উন্নতি যেন স্থায়ী হয়, সে জন্য প্রয়োজন আরও সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা।