
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় আজ শীর্ষস্থান দখল করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি শহর—ইরাকের বাগদাদ এবং কুয়েত সিটি। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বাগদাদের বায়ুদূষণ সূচক (একিউআই) ছিল ৭৫৮, যা স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর ঠিক পরেই ৫৭৭ একিউআই স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল কুয়েত সিটি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত ৩০১ একিউআই ছাড়ালেই তা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই বাগদাদ ও কুয়েত সিটির বর্তমান অবস্থাকে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলা হচ্ছে।
এর আগে ১৫ মে বাগদাদে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল, যখন শহরটির একিউআই ছিল ১০৯২।
তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে ছিল আফ্রিকার কঙ্গোর কিনশাসা (১৭৮ একিউআই) এবং দক্ষিণ আমেরিকার চিলির সান্তিয়াগো (১৫৫ একিউআই)।
এদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার পুরনো দূষিত শহরগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের লাহোর আজও শীর্ষ পাঁচে রয়েছে—১৫৫ একিউআই নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে। তবে ঢাকা এবং দিল্লি কিছুটা ব্যতিক্রম অবস্থানে রয়েছে।
বর্ষাকালের বৃষ্টির কারণে গত কিছুদিন ধরে ঢাকার বায়ুমান তুলনামূলকভাবে উন্নত হলেও, আজ ফের কিছুটা অবনতি হয়েছে। আজ সকালে ঢাকার একিউআই স্কোর ছিল ৯০, যা ‘মাঝারি’ শ্রেণিতে পড়ে। গতকাল ছিল ৭৭, আর তার আগের দিন ছিল ৭৯।
তালিকার ১২তম স্থানে থাকা দিল্লির একিউআই ছিল ৮৬, যা আজ ঢাকার চেয়ে ভালো।
বাংলাদেশে একিউআই মূলত পাঁচ ধরনের দূষণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়:
পিএম ২.৫ ও পিএম ১০
নাইট্রোজেন ডাই–অক্সাইড (NO₂)
সালফার ডাই–অক্সাইড (SO₂)
কার্বন মনো–অক্সাইড (CO)
ওজোন (O₃)
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, প্রতি বছর বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। যার প্রধান কারণ—স্ট্রোক, হৃদরোগ, সিওপিডি, ফুসফুস ক্যানসার এবং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ।
পরিবেশবিদদের মতে, বর্ষাকালে বৃষ্টির ফলে বাতাসে ভাসমান ধুলিকণা ধুয়ে যায়, যা স্বস্তিদায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পিত পদক্ষেপ ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।