
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টি এবং নদ-নদীর পানিপ্রবাহ বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
এদিকে দেশের কিছু অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীতে পানিপ্রবাহ বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এসব এলাকার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং কোথাও কোথাও তা অতিক্রম করতেও পারে।
কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, “আগামী শুক্র ও শনিবার ফেনী জেলার মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁয়ে যেতে পারে। এছাড়া সিলেটের সারিগোয়াইন, সুনামগঞ্জের যাদুকাটা, হবিগঞ্জের খোয়াই ও নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। এসব এলাকায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।”
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার এই প্রবণতা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। ফলে সার্বিকভাবে দেশের আবহাওয়ার অবস্থা বর্তমানে অস্থির।
সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী এবং নদীপথে চলাচলকারী নাগরিকদের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর নৌ ও সমুদ্রপথে চলাচলকারী নৌযান, জেলেরা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার অনুরোধ জানিয়েছে।