
প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সিরাজগঞ্জে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সদর উপজেলার ভাটপিয়ারি এলাকায় যমুনা তীর সংরক্ষণ বাঁধের প্রায় ৪৫ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীর অব্যাহত ভাঙনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিস্তৃত হচ্ছে ভাঙন, ডুবে যাচ্ছে নতুন এলাকা
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে যমুনা নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। এতে করে শাহজাদপুর, চৌহালী, বেলকুচি, কাজিপুর ও সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নতুন নতুন গ্রাম, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে সদর উপজেলার ব্রাহ্মণবয়ড়া থেকে পাঁচঠাকুরি পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। ভাটপিয়ারি অংশে ইতোমধ্যে বাঁধের ৪৫ মিটার অংশ সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
ক্ষোভ জানাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ভাঙনের আলামত দেখা গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তারা জানান, গত দুই মাস ধরে ব্রাহ্মণবয়ড়া, ভাটপিয়ারি ও পাঁচঠাকুরি এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি থাকলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এখন জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন তারা।
ভাটপিয়ারির বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, “প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা বাজেট হয়, কিন্তু কার্যকর কাজ কিছুই হয় না। আমাদের জীবন, জমি, ঘরবাড়ি সবকিছু নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হোসাইন জানান, যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। “আমরা জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছি, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে সতর্কভাবে কাজ করছি,”—বলেন তিনি।
আশঙ্কা আরও ভাঙনের
আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী কয়েকদিন দেশে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে। এ অবস্থায় নদীর পানি আরও বাড়তে পারে, যা ভাঙন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয়দের দাবি
সিরাজগঞ্জবাসীর দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ ছাড়া ভাঙন রোধ সম্ভব নয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঠিক তদারকি ও সময়মতো পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে প্রতিবছরই এমন দুর্ভোগে পড়তে হবে।