ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

শেরপুরে গ্রীষ্মকালেই বন্যার আশঙ্কা: পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২১ মে ২০২৫, ১০:৫০ সকাল

Link Copied!

গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে শেরপুর জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গ্রীষ্ম মৌসুমেই বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও আবহাওয়া বিভাগ শেরপুর জেলায় আগাম বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। মঙ্গলবার (২০ মে) এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। এতে জনজীবন, কৃষি খাত এবং অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা
বিকাল ৩টা পর্যন্ত নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালি নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১২৮ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। ঝিনাইগাতীর মহারশি নদীর পানিবৃদ্ধিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। গত বছরের ভাঙনের পরেও বেড়িবাঁধটির সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় এবার আগাম বন্যার তোড়ে তা আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঝিনাইগাতীর দিঘীরপাড় এলাকায় নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে, বালির বস্তাগুলোও ধসে পড়তে শুরু করেছে। অন্যদিকে, সোমেশ্বরী নদীর তীব্র স্রোতের কারণে চাপাতলী এলাকায় একটি নির্মাণাধীন সেতুর সাটারিং ভেঙে তিনটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সেতুটি অনেক নিচু করে নির্মাণ করায় পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে আশপাশে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

কৃষি খাতে শঙ্কা
জেলার বিভিন্ন স্থানে বোরো ধানের জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার ৮৫ শতাংশ বোরো ধান ইতোমধ্যে কাটা হলেও বাকি ১৫ শতাংশ জমির ধান এখনও মাঠে রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ধান এখনও পুরোপুরি কাটা হয়নি। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনের প্রস্তুতি
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, আগাম বন্যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় দুর্যোগ প্রস্তুতি কমিটির সভা সম্পন্ন হয়েছে। জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং, সতর্কবার্তা প্রচার, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতি এবং শুকনো খাবার ও টিন বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) শেরপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান জানান, নদীভাঙন ঠেকাতে প্রায় ৮ হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বেড়েছে, তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আগাম বন্যা মোকাবিলায় আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

বর্ষার আগেই এমন পরিস্থিতি কৃষি ও জনজীবনের জন্য উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন, কৃষক, স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষ সবাইকে একযোগে প্রস্তুত থাকতে হবে—এমন বার্তাই দিচ্ছে আগাম এই দুর্যোগের আশঙ্কা।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

নওগাঁয় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ব্যাংক কর্মচারীর মৃত্যু

সপ্তাহজুড়ে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া? জানাল অধিদপ্তর

স্তনবৃন্তে স্পর্শ করলেই কেন হঠাৎ মন খারাপ, কী এই ‘স্যাড নিপল সিনড্রোম’?

upay Rewards Three Distributor Partners with Umrah Packages under ‘Shopner Umrah 2026’ Campaign

উপায়ের ‘স্বপ্নের ওমরাহ’ ক্যাম্পেইনে পুরস্কার পেলেন ৩ ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার

সাতক্ষীরায় ৭৫ শতাংশ জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবার তীব্র খাদ্য সংকটে

মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

হাসপাতাল নেই ৬০ গ্রামে, অসুস্থ হলে আট ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি

চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

ঢাকায় শুষ্ক আবহাওয়া, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু রক্ষায় ১২ সংস্থার সঙ্গে ইউএনডিপির চুক্তি

সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভা