
গণপরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএ বিভিন্ন আদেশ জারি করলেও দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থা বিআরটিএ এর সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিআরটিএ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। তন্মধ্যে- মোবাইল এ্যাপস এর ব্যবহার, হটলাইন নাম্বার প্রদান, প্রত্যেকটি গাড়িতে আলাদাভাবে অভিযোগ বাক্স স্থাপন ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এগুলির মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিযোগগুলি সঠিকভাবে তদারকি করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে গণপরিবহনে ধূমপান অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। আজ ১৯ মে ২০২৫, সোমবার ‘গণপরিবহন ও পাবলিক প্লেসে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন বাস্তবায়নের গুরুত্ব ও করণীয়’- শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
ডেভলপমেন্ট এ্যাকটিভিটিস অফ সোসাইটি-ডাস্, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট-বাটা এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আয়োজনে বনানী বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মো: ইয়াসীন, (গ্রেড-১), চেয়ারম্যান, বিআরটিএ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো: আকতারুজ্জামান (যুগ্মসচিব), মহাপরিচালক, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল। বিআরটিএ রোড সেফটি বিভাগ এর উপপরিচালক মো: নাজমুল হক, উপসচিব এর সঞ্চালনায় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট-বাটা’র ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী হেলাল আহমেদ এবং স্বাগত বক্তব্য দেন বিআরটিএ রোড সেফটি বিভাগের পরিচালক শীতাংশু শেখর বিশ্বাস, পাওয়ার পয়েন্ট ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ডাস্ এর টীম লীড আমিনুল ইসলাম বকুল এবং ধারণাপত্রের উপর বিশ্লেষণমূলক মূল বক্তব্য প্রদান করেন ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর কারিগরী পরামর্শক আমিনুল ইসলাম সুজন।
ডাস্ পরিচালিত জরিপে দেখা যায় যে, গণপরিবহন যাত্রীরা পরিবহনের ভিতরে ধূমপান সম্পর্কে অনেকটা সচেতন হলেও গাড়ির ড্রাইভার/কন্ডাকটরেদের বেশীর ভাগই মোটেও সচেতন বা যত্নশীল না। এটাই এখন গণপরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকার বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের ধূমপানের হার অনেকটা হ্রাস পেলেও শতকরা প্রায় ৮৯ ভাগ পরিবহন কর্মীরা এখনও ধূমপান করে থাকে। টার্মিনালগুলোর শতকরা ৬৩ ভাগ দোকানে তারা TAPs BAN আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন রকম বিজ্ঞাপন প্রচার করে চলছে। এছাড়া শতকরা ৫৬ ভাগ পরিবহনে ধূমপানমুক্ত সাইনেজ নেই।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান তাঁর বক্তব্যর শুরুতেই তামাক নিয়ন্ত্রণে এনফোর্সমেন্ট এর ক্ষেত্রে জরিমানা করা এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এর কথা উল্লেখ করেন। এগুলো বিবেচনায় যাত্রী ও পরিবহন কর্মীদের জন্য আলাদা কৌশল গ্রহণ করার কথা বলেন। তিনি কৌশল গ্রহণের জন্য উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারীদের তিনটা গ্রুপে ভাগ করে তাদের কাছ থেকে এনফোর্সমেন্ট, এডুকেশন/ এ্যাওয়ারনেস এবং আইইসি মেটেরিয়াল এর জন্য কনটেন্ট ডেভলপমেন্ট বিষয়ে গ্রুপ ওয়ার্কের মাধ্যমে মতামত গ্রহণ করেন এবং মাসিক ভিত্তিতে কর্ম পরিকল্পনা গ্রহনের ইচ্ছা পোষন করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমরা ২০২৫ সালে যে পরিকল্পনাগুলি গ্রহণ করবো, ২০২৬ সালে সেগুলিকে একটা মূল্যায়ন করে নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। তিনি সিটি কর্পোরেশন নিয়ন্ত্রিত বাস টার্মিনালগুলোতে ১/২ মাসে একটা করে সেমিনার আয়োজন করা এবং সেখানে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারকরণে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) সহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। একইসাথে বিআরটিএ এবং সিটি কর্পোরেশন এর ম্যাজিস্ট্রেটদেরও বাস টার্মিনালগুলোতে মাসে অন্তত ১/২ বার ধূমপান নিয়ন্ত্রণের উপর মোবাইল কোর্ট করে জরিমানা করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি গাড়ির ফিটনেস দেয়ার সময় বাধ্যতামূলকভাবে স্টিকার লাগানো নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ কর্মকর্তাদের মনযোগ আকর্ষন করেন। তিনি আরও বলেন, এ সময় ড্রাইভার/পরিবহন কর্মীদের বড় গেদারিং থাকে। বিআরটিএ’র এরকম যে কোন প্রোগ্রামে ধূমপান বিরোধী বিষয়ে এ্যাক্টিভিস্টদের থেকে কেউ ১৫/২০ মিনিটের সেশন নিতে চাইলে তিনি তারও সুযোগ করে দিবেন।
সভায় অন্যন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ প্রতিনিধি, বিআরটিসি প্রতিনিধি, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিনিধি, ট্যুরিস্ট পুলিশ প্রতিনিধি, নৌপুলিশ প্রতিনিধি, ডিএমপি প্রতিনিধি, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং আয়োজক সংস্থাগুলির প্রতিনিধিবৃন্দ।