ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় ফেন্সিং বেঁড়া নির্মাণ

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ৫:৪০ বিকাল

Link Copied!

বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে বিস্তৃত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবন বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় বিস্তৃত। প্রকৃতির এই অপূর্ব সম্পদ রক্ষায় সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও বন সংলগ্ন লোকালয়ের মানুষকে দীর্ঘদিন ধরেই বন্যপ্রাণীর হানা ও অন্যান্য সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছিল। তবে এবার বন্যপ্রাণী-মানুষ সংঘাত কমাতে বাগেরহাটের শরণখোলা ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় নাইলনের ফেন্সিং বেড়া নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ফেন্সিং বেড়া নির্মাণের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

তারা আশা করছেন, এ উদ্যোগ বন্যপ্রাণীর লোকালয়ে প্রবেশ রোধ করবে এবং বনজসম্পদ রক্ষায় সহায়ক হবে।সুন্দরবন ঘেঁষা গ্রামগুলোর মানুষের জন্য বন্যপ্রাণীর হানা কোনো নতুন বিষয় নয়। বিশেষ করে রাজাপুর, রসুলপুর, সোনাতলা, চালিতাবুনিয়াসহ প্রায় ২০টি গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগে প্রায়ই বাঘ, বন্য শুকর, বানরসহ বিভিন্ন প্রাণী আমাদের গ্রামে ঢুকে পড়ত। রাতের বেলা আতঙ্কে ঘুমাতে পারতাম না। কয়েক বছর আগে আমাদের পাশের গ্রামে এক বৃদ্ধকে বাঘে আক্রমণ করেছিল। ফেন্সিং বেড়া হলে এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে মনে হচ্ছে।

শাহানা বেগম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের ধানখেত থেকে শুরু করে সবজি বাগান পর্যন্ত বন্যপ্রাণীর আক্রমণের শিকার হয়েছে। বিশেষ করে বন্য শুকর রাতের আঁধারে এসে ক্ষেতের ফসল নষ্ট করে দেয়। এখন যে বেড়া নির্মাণ করা হচ্ছে, তা দেখে মনে হচ্ছে অন্তত ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে। এছাড়া, গবাদিপশুর জন্যও এই ফেন্সিং বেড়া আশার আলো দেখাচ্ছে।’

বন বিভাগ জানায়, সুন্দরবনের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ভোলা ও খড়মা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বনের বাঘ, শুকর ও হরিণ সহজেই লোকালয়ে প্রবেশ করছিল। এতে একদিকে যেমন মানুষের জানমালের ক্ষতি হচ্ছিল, অন্যদিকে গবাদিপশু বনাঞ্চলে ঢুকে বন্যপ্রাণীর দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছিল। এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে বন বিভাগের উদ্যোগে ‘সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের’আওতায় ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শুরু হয় নাইলনের ফেন্সিং বেড়া নির্মাণকাজ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ফেন্সিং বেড়ার দৈর্ঘ্য হবে ২৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৫ কিলোমিটারের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকিটুকুর কাজ চলতি বছরের শেষ হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুদীপ্ত কুমার সিংহ বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন নদী খাল গুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় লোকালয়ের সঙ্গে বনের দূরত্ব কমেছে। ফলে খুব সহজে বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে চলে আসছে, অন্যদিকে লোকালয়ের মানুষজন ও গবাদি পশু বনে অবাধে বিচরণ করছে। ফেন্সিং বেড়া নির্মাণকাজের পর বন্যপ্রাণীর লোকালয়ে প্রবেশের হার কমবে, ফলে বন্যপ্রাণী হত্যা ও সংঘাতের আশঙ্কাও হ্রাস পাবে। পাশাপাশি, নদী পুনঃখনন হলে জলাবদ্ধতার সমস্যা দূর হবে এবং বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকবে।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ফেন্সিং বেড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নদী পুনঃখননের কাজও একই প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরেই আমাদের এসব কাজ শেষ হবে, যাতে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

নওগাঁয় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ব্যাংক কর্মচারীর মৃত্যু

সপ্তাহজুড়ে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া? জানাল অধিদপ্তর

স্তনবৃন্তে স্পর্শ করলেই কেন হঠাৎ মন খারাপ, কী এই ‘স্যাড নিপল সিনড্রোম’?

upay Rewards Three Distributor Partners with Umrah Packages under ‘Shopner Umrah 2026’ Campaign

উপায়ের ‘স্বপ্নের ওমরাহ’ ক্যাম্পেইনে পুরস্কার পেলেন ৩ ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার

সাতক্ষীরায় ৭৫ শতাংশ জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবার তীব্র খাদ্য সংকটে

মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

হাসপাতাল নেই ৬০ গ্রামে, অসুস্থ হলে আট ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি

চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

ঢাকায় শুষ্ক আবহাওয়া, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু রক্ষায় ১২ সংস্থার সঙ্গে ইউএনডিপির চুক্তি

সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভা