ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড তাপমাত্রা

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ৪:১৩ বিকাল

Link Copied!

“প্রকৃতির সব সমীকরণ কি তবে উল্টে যাচ্ছে? যখন ‘লা নিনা’র প্রভাবে আবহাওয়া শীতল হওয়ার কথা, ঠিক তখনই ২০২৫ সাল পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছরের তকমা নিয়ে শেষ হলো। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, গত ১১ বছর ধরে চলা নিরবচ্ছিন্ন উষ্ণায়ন এখন এক মহাবিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে। একদিকে অ্যান্টার্কটিকায় বরফ গলার ভয়াবহ গতি, অন্যদিকে মহাসাগরের ফুটন্ত জলরাশি-সব মিলিয়ে ধরিত্রী এখন এক চরম ‘রেড অ্যালার্ট’ বা লাল সংকেতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কেন এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ কতটা ঝুঁকির মুখে, তা নিয়ে জাতিসংঘের দেওয়া সতর্কবার্তা ও ভয়াবহ প্রভাবগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির ভয়াবহ চিত্র
বিশ্বের আটটি আন্তর্জাতিক ডেটাসেট বিশ্লেষণ করে WMO জানিয়েছে, গত বছর বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্পায়নপূর্ব যুগের (১৮৫০-১৯০০) তুলনায় প্রায় ১.৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এটি প্যারিস জলবায়ু চুক্তির নির্ধারিত ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বিপজ্জনক সীমার অত্যন্ত কাছাকাছি। আটটি ডেটাসেটের মধ্যে দুটি ২০২৫ সালকে গত ১৭৬ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর হিসেবে চিহ্নিত করেছে, বাকি ছয়টি এটিকে তৃতীয় স্থানে রেখেছে।

‘লা নিনা’ প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি
২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৫ সাল সামান্য শীতল মনে হওয়ার পেছনে ‘লা নিনা’ (La Niña) আবহাওয়ার প্রভাব ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে WMO মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো সতর্ক করে বলেছেন, “লা নিনা সাময়িকভাবে আবহাওয়া শীতল করলেও দীর্ঘমেয়াদী উষ্ণায়নের প্রবণতাকে রোধ করতে পারেনি। বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে লা নিনা থাকা সত্ত্বেও ২০২৫ সাল অন্যতম উষ্ণতম বছরে পরিণত হয়েছে।”

মহাসাগর ও চরম আবহাওয়ার প্রভাব
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাসাগরের তাপমাত্রা ২০২৫ সালে রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ৩৩ শতাংশ এলাকা তার ইতিহাসের শীর্ষ তিনটি উষ্ণতম অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মমন্ডলীয় ও দক্ষিণ আটলান্টিক, ভূমধ্যসাগর এবং উত্তর ভারত মহাসাগরের তাপ বৃদ্ধি আশঙ্কাজনক।

এই চরম তাপমাত্রার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি এবং প্রাণঘাতী গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে ‘আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ বা আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।

WMO জানিয়েছে, আগামী মার্চ মাসে তারা ‘স্টেট অফ দ্য গ্লোবাল ক্লাইমেট ২০২৫’ শীর্ষক পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। সেখানে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ, পৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং সমুদ্রের তাপ সঞ্চয় নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।

অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর এই উষ্ণায়নের প্রভাব এখন আর কেবল তাত্ত্বিক নয়, বরং এক কঠোর বাস্তব। সময়োচিত ব্যবস্থা না নিলে এই ধারা পৃথিবীর ভবিষ্যৎকে চরম সংকটে ফেলবে বলে মনে করছেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

নওগাঁয় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ব্যাংক কর্মচারীর মৃত্যু

সপ্তাহজুড়ে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া? জানাল অধিদপ্তর

স্তনবৃন্তে স্পর্শ করলেই কেন হঠাৎ মন খারাপ, কী এই ‘স্যাড নিপল সিনড্রোম’?

upay Rewards Three Distributor Partners with Umrah Packages under ‘Shopner Umrah 2026’ Campaign

উপায়ের ‘স্বপ্নের ওমরাহ’ ক্যাম্পেইনে পুরস্কার পেলেন ৩ ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার

সাতক্ষীরায় ৭৫ শতাংশ জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবার তীব্র খাদ্য সংকটে

মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

হাসপাতাল নেই ৬০ গ্রামে, অসুস্থ হলে আট ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি

চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

ঢাকায় শুষ্ক আবহাওয়া, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু রক্ষায় ১২ সংস্থার সঙ্গে ইউএনডিপির চুক্তি

সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভা