
ভারতের হিমাচল প্রদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার বালির উপকূলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভয়াবহ প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। হিমাচলে টানা বৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যু এবং ৩৪ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অপরদিকে, বালির কাছে যাত্রীবাহী একটি ফেরি ডুবে নিখোঁজ হয়েছেন অন্তত ৪৩ জন।
হিমাচল প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব বিভাগের বিশেষ সচিব ডিসি রানা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাজ্যে বর্ষা শুরু হয়েছে ১৯ জুন থেকে এবং এরপর থেকে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত ২৯ ও ৩০ জুন ভারী বর্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুধবার মান্ডি অঞ্চলে একদিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন।
বিশেষ করে বিয়াস নদী বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় মান্ডি অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। অনেক সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ, এবং ভারী ভূমিধসের আশঙ্কায় ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) রাজ্যে ‘রেড এলার্ট’ জারি করেছে।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার বালির উপকূলে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন ৪৩ জন। ফেরিটি ৬৫ জন যাত্রী ও কর্মী নিয়ে পূর্ব জাভার কেতাপাং বন্দর থেকে বালির গিলিমানুক বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। পথে মাত্র ৩০ মিনিট পার হওয়ার পর এটি সাগরে ডুবে যায়। ফেরিটির নাম ছিল ‘কেএমপি তুনু প্রতমা জয়া’।
দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে নয়টি নৌযান কাজ করছে, যার মধ্যে রয়েছে টাগ বোট ও রাবার বোট। সাগরের ঢেউয়ের উচ্চতা প্রায় ২ মিটার (৬.৫ ফুট) হওয়ায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার এই দুই দুর্যোগে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। উভয় দেশেই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিতে কাজ করছে সরকার ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো।