
বাংলাদেশের কৃষিখাতে আরও স্মার্ট ও কার্যকর সরকারি ব্যয় নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু সহনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে মোট সরকারি ব্যয়ের প্রায় ১০ শতাংশ কৃষিখাতে বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেই ব্যয়ের মাধ্যমে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে না। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ক্ষেত্রেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না, বিশেষ করে উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্যের উৎপাদনে উন্নয়ন সীমিত রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক জানায়, কৃষি খাতে সরকারি ব্যয়ের বড় অংশই সার ও ধান উৎপাদনকেন্দ্রিক ভর্তুকির পেছনে ব্যয় হয়। এর ফলে তুলনামূলকভাবে বড় কৃষকেরা বেশি সুবিধা পেলেও ছোট ও প্রান্তিক কৃষকেরা সেই সুবিধা সমানভাবে পাচ্ছেন না।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে দেশে মাত্র ৫ শতাংশ কৃষক সঠিকভাবে সারের ব্যবহার নিশ্চিত করছেন, যা উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া দেশের ৭২ শতাংশ কৃষিজমিতে ধান চাষ হওয়ায় পশুপালন, মৎস্য ও সবজি উৎপাদনের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলো পর্যাপ্তভাবে বিকশিত হচ্ছে না।
বিশ্বব্যাংকের মতে, মাটির সঠিক পরীক্ষা, কৃষি সম্প্রসারণ সেবার মানোন্নয়ন এবং ই-ভাউচার ব্যবস্থা চালু করা গেলে সরকারি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে কৃষি খাতে দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং সম্পদের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কৃষি খাতে নীতিগত সংস্কার ও লক্ষ্যভিত্তিক সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হবে।