
ক্যারিবীয় সাগরে সৃষ্ট বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় ‘হারিকেন মেলিসা’ দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে এখন বিরল ক্যাটাগরি-৫ মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। ঘণ্টায় প্রায় ২৮২ কিলোমিটার (১৭৫ মাইল) বেগের ভয়ঙ্কর বাতাসে এটি এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি)।
এনএইচসি সতর্ক করেছে, ঝড়টি ‘বিধ্বংসী ও প্রাণঘাতী বায়ুপ্রবাহ, প্রবল বর্ষণ ও ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস’ নিয়ে যেকোনো মুহূর্তে জ্যামাইকার উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার ভোরে এটি রাজধানী কিংস্টনসহ দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানবে।
ইতোমধ্যে হাইতি ও ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে মেলিসার প্রভাবে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী সান্টো ডোমিনগোর বহু আবাসিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে, মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত।
বিশ্লেষকদের উদ্বেগ, ঝড়টির ধীর গতি এবং অতিবৃষ্টিপাতের কারণে জ্যামাইকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিতে পারে। এনএইচসি জানিয়েছে, আগামী চার দিনে জ্যামাইকার কিছু এলাকায় ১০০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা ব্যাপক দুর্যোগ ডেকে আনবে।
সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় প্রকাশিত সতর্কবার্তায় জানানো হয়, ঝড়টি রাজধানী কিংস্টনের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ২৩৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে এবং ঘণ্টায় মাত্র ৬ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমমুখে অগ্রসর হচ্ছে।
এনএইচসি’র উপপরিচালক জেমি রোম বলেন, “মেলিসার ধীরগতি ও অতিবৃষ্টি জ্যামাইকার জন্য একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।”
জ্যামাইকার সরকার ইতোমধ্যেই পুরো দ্বীপকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’ ঘোষণা করে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজধানীসহ উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে মানুষকে স্কুলবাসে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যানজট এড়াতে টোল বুথগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। ৮৮১টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে, যেগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ডানা মরিস ডিকসন বলেন, “অক্টোবরজুড়ে বৃষ্টি হয়েছে, মাটি ভেজা। এর মধ্যে আবার অতিবৃষ্টি হলে ভয়ংকর বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়বে। আমরা এরকম ঝড় আগে দেখিনি।”
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস এক্স প্ল্যাটফর্মে (আগের টুইটার) উদ্বেগ প্রকাশ করে লেখেন, “প্রতিটি জ্যামাইকানকে অনুরোধ করছি প্রস্তুত থাকুন, ঘরে থাকুন এবং সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ মানুন। আমরা এই ঝড় কাটিয়ে আরও শক্তভাবে ফিরব।”
হাইতিতে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু ও শত শত ঘরবাড়ি প্লাবনের খবর পাওয়া গেছে। ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে ৭৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বানের জলে ভেসে গিয়ে মারা গেছেন। নিখোঁজ রয়েছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর। এছাড়া বন্যার পানিতে আটকা পড়া কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এনএইচসি বলছে, বাতাসের গতি ও নিম্নচাপের বিচারে ‘মেলিসা’ই ২০২৫ সালের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়।
সূত্র: বিবিসি