
বছরের সবচেয়ে শীতলতম দিনে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাড়কাঁপানো তীব্র শীত ও হিমেল বাতাসে স্বাভাবিক জনজীবন স্থবির হয়ে গেছে। টানা তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। চলতি শীত মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং আগামী ১১–১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তীব্র শীতের কারণে ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও চায়ের দোকানের সামনে নিম্ন আয়ের মানুষরা আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। দৈনন্দিন কাজ চালানোও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
শীতের প্রকোপ বাড়ায় জেলাজুড়ে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু ও বয়োবৃদ্ধ রোগীর চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। সদর হাসপাতালে প্রতিদিন ৪০০–৫০০ জন রোগী শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ডায়রিয়া সমস্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস জানান, শীতের কারণে সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটছে এবং হাসপাতালের কিছুটা চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে।