
সারা দেশে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে, ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়েছে জনজীবন। রোববার (৪ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে, ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শ্রীমঙ্গল ছাড়াও সিলেট, কুমিল্লা, নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ চলছে।
শ্রীমঙ্গল ও পঞ্চগড়ে হাড়কাঁপানো শীত
শ্রীমঙ্গলে শীতের তীব্রতায় জনজীবন প্রায় থমকে গেছে। হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলঘেঁষা জেলা পঞ্চগড়েও হাড়কাঁপানো শীত বিরাজ করছে। আজ সকালে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ১১.০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যেখানে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। উত্তরের হিম শীতল বাতাসে সাধারণ মানুষ ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সিরাজগঞ্জে বৃষ্টির মতো কুয়াশা
যমুনাপাড়ের জেলা সিরাজগঞ্জে আজ বৃষ্টির মতো ঘন কুয়াশা নেমে এসেছে। সকাল থেকেই রাস্তাঘাট ঢেকে ছিল কুয়াশার চাদরে। জেলাটিতে সর্বনিম্ন ৯.৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। কনকনে শীতে দিনমজুর ও খেটে-খাওয়া মানুষজন কাজে বের হতে পারছেন না।
ঢাকায় কুয়াশার কবলে রাজধানী
রাজধানী ঢাকাও আজ ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার মধ্যে ছিল। বিশেষ করে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদীর তীরবর্তী এলাকায় কুয়াশার প্রভাব সবচেয়ে বেশি। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.২° সেলসিয়াস। দিনের বেলায় কুয়াশা কিছুটা কমলেও শীতের অনুভূতি কমেনি।
সারা দেশের সর্বনিম্ন ১০ স্থানের তাপমাত্রা (৪ জানুয়ারি)
১. শ্রীমঙ্গল: ৯.৫° সে.
২. যশোর: ৯.৬° সে.
৩. সিরাজগঞ্জ: ৯.৬° সে.
৪. কুমারখালী: ৯.৮° সে.
৫. সিলেট: ৯.৯° সে.
৬. কুমিল্লা: ১০.০° সে.
৭. ঈশ্বরদী: ১০.০° সে.
৮. রাজারহাট: ১১.০° সে.
৯. তেঁতুলিয়া: ১১.০° সে.
১০. টাঙ্গাইল: ১০.৫° সে.
বিভাগ ভিত্তিক আবহাওয়া:
ঢাকা বিভাগ: ঢাকায় সর্বোচ্চ ২১° সে. এবং সর্বনিম্ন ১২.২° সে. টাঙ্গাইলে ১০.৫° সে. এবং গোপালগঞ্জে ১১.২° সে.
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলা: চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন ১৩.৯° সে., কুমিল্লায় ১০° সে. এবং ফেনীতে ১০.৮° সে. সেন্ট মার্টিনে সর্বোচ্চ ৩৩° সে.
সিলেট বিভাগ: সিলেটে ৯.৯° সে. এবং শ্রীমঙ্গলে ৯.৫° সে.
রাজশাহী বিভাগ: ঈশ্বরদীতে ১০° সে. এবং রাজশাহীতে ১২° সে.
রংপুর বিভাগ: দিনাজপুরে ১১.৬° সে., তেঁতুলিয়ায় ১১° সে.
খুলনা ও বরিশাল বিভাগ: যশোরে ৯.৬° সে., খুলনায় ১১.৪° সে., বরিশালে ১২.২° সে.
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘন কুয়াশার প্রভাব আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে রাত ও ভোরে নদী অববাহিকায় চলাচলের সময় সাবধানতার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।