
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কমলাপুরসহ দেশের ৩০ টি রেলওয়ে স্টেশন পুরোপুরি ধুমপানমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আগামীতে পর্যায়ক্রমে রেলের ৫০৬ টি স্টেশন এবং ট্রেনগুলো তামাকমুক্ত করার কথা জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সকালে রেলওয়ে ভবনে ধূমপান ও তামাকমুক্ত রেল পরিষেবা গড়ে তুলতে সম্মানা পদক প্রদান ও জরিপের তথ্য উপস্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রেল সচিব।
অনুষ্ঠানে ধূমপান ও তামাকমুক্ত রেল পরিষেবা গড়ে তুলে উদ্যোগী ভূমিকা রাখায় সারাদেশের বিভিন্ন ধরনের ২২ রেল কর্মকর্তাকে সম্মাননা প্রদান করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। একইসাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধূমপানমুক্ত রেল গড়ার প্রচার প্রচারণা চালানোর জন্য স্টপ টোব্যাকো বাংলাদেশের পেইজের মডারেটর ও ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের কারিগরি পরামর্শক আমিনুল ইসলাম সুজনকে সম্মাননা পদক দেয়া হয়।

রেল যাত্রীদের জন্য সবধরনের তামাকমুক্ত রেল পরিষেবা দিতে আইএমবিআরটিএফ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের অগ্রগতি তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্ম সচিব মীর আলমগীর হোসেন। তবে এখনও রেলের দুই বগির মাঝের অংশ যাত্রীদের কেউ কেউ ধুমপান করে বলে জানান তিনি। যা বন্ধের জন্য সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান প্রকল্প পরিচালক। রেলের চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ে জরিপ প্রতিবেদন তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও আর্ক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড.রুমানা হক। প্রকল্পের আওতাধীন ৩০ টি রেলওয়ে ষ্টেশনে গত ১৯ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত জরিপ পরিচালনা করে আর্ক ফাউন্ডেশন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলপত্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: ফাহিমুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে প্রতিবছর দেশে ৯ কোটি যাত্রী রেলে চলাচল করে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য রক্ষায় রেলওয়ে প্রকল্প চলমান রয়েছে। বর্তমানে কমলাপুর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, রাজশাহী, সান্তাহার, রংপুর,জয়পুরহাট, ঈশ্বরদী, দিনাজপুর,পার্বতীপুরসহ ৩০ টি রেলওয়ে স্টেশন সম্পূর্ণভাবে ধূমপান ও তামাকমুক্ত করা হয়েছে। এসব স্টেশনের কোথাও পান ও সিগারেট বিক্রির দোকান নেই বলেও জানান রেলপথ সচিব।
তিনি বলেন, আগামীতে সবগুলো রেলওয়ে স্টেশন ও যাত্রীবাহী ট্রেনগুলো তামাকমুক্ত করার উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রেলওয়ে যাত্রীদের জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানান রেল সচিব ফাহিমুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো: আফজাল হোসেন, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল-এনটিসিসির মহাপরিচালক ও স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ম নচিব মো: আখতারউজ-জামান, এনটিসিসির সাবেক সমন্বয়কারী ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব, হোসেন আলী খন্দকার, সাবেক সিনিয়র সচিব মো: হামিদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি ও তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, ভাইটাল ষ্ট্রাটেজিস বাংলাদেশের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো: শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।