
রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নগরীর নিচু এলাকাসহ তীরবর্তী অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিপদসীমার মাত্র ৫৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ, অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৯টায় পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ৫০ মিটার। রাজশাহীতে পদ্মার বিপদসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। পাউবো সূত্র জানায়, রোববার সকাল ছয়টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ মিটার, যা গত কয়েকদিনের টানা বৃদ্ধিতে আজ সকালে সাড়ে ১৭ মিটারে পৌঁছেছে।

পানি বাড়ার ফলে রাজশাহী শহরের পদ্মা তীরবর্তী তালাইমারী, পঞ্চবটি, কাজলা, এবং পাঠানপাড়া লালন শাহ মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে। এর মধ্যে তালাইমারী ও পঞ্চবটি এলাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। এসব এলাকার অনেক বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় বাসিন্দারা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে উঁচু স্থান বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন।

তালাইমারী এলাকার বাসিন্দা নুর উদ্দিন জানান, গত তিন দিন ধরে পানি বাড়ছে এবং তার ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় তিনি আপাতত একটি চায়ের দোকানে জিনিসপত্র রেখেছেন। আরেক বাসিন্দা খুশি বেগম বলেন, “রাত থেকে যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে আজই বাড়ি ছাড়তে হবে। যেকোনো সময় ঘরে পানি ঢুকে যাবে।”

বন্যার পানিতে শুধু ঘরবাড়িই নয়, ফসলি জমিও তলিয়ে গেছে। পঞ্চবটি এলাকায় একটি পুকুরের মালিক টুটুল জানান, পদ্মার পানি তার পুকুরে ঢুকে যাওয়ায় তিনি দ্রুত মাছ তুলে ফেলার চেষ্টা করছেন, নইলে সব মাছ ভেসে যাবে। চরাঞ্চলের কৃষকরা জানিয়েছেন, হঠাৎ পানি বাড়ায় তাদের বাদাম, পাটসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছরই এই সময়ে পদ্মায় পানি বাড়ে। তবে এই বছর উজানে, বিশেষ করে ভারতে, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পানি প্রবাহ বেশি। ভারতের ফারাক্কা বাঁধের গেট খুলে দেওয়ায় পদ্মায় পানি বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে, যা অতীতেও বন্যার কারণ হয়েছে।
এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা। জুম্মুন মহলদার নামে এক ব্যক্তি বলেন, “আমার যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। একটি ক্লাব ঘরে ওঠার জন্য কথা বলছি। গত তিন বছর এখানে পানি আসেনি, এবার এসেছে। কিন্তু এখনো কোনো সাহায্য পাইনি।”
পদ্মার পানি বাড়ার সাথে সাথে নদী ভাঙনের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। জেলার গোদাগাড়ী, পবা, বাঘা ও চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন অংশে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে নদীপাড়ের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড আগামী ১০ দিনের মধ্যে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে, তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।