
কদিন ধরে মৌলভীবাজার জেলায় শীতের প্রকোপ বাড়ছে। ভোর থেকে আকাশ ঢাকা থাকে কুয়াশায়, অনেক সময় দুপুর গড়িয়েও সূর্যের দেখা মেলে না। কনকনে হিমেল হাওয়া প্রকৃতিকে স্থবির করে তুলেছে।
জেলার ৯২টি চা বাগানের চা শ্রমিক পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। খোলামেলা পরিবেশে বসবাস করা এসব শ্রমিকদের অধিকাংশেরই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই। শিশু ও বৃদ্ধরা পাতলা কাপড়ে কাঁপতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত সোমবার ছিল ১২.৫ ডিগ্রি এবং রবিবার সর্বনিম্ন ৯.৫ ডিগ্রি। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শহরের নিম্ন আয়ের মানুষরাও শীতের কারণে কষ্টে রয়েছেন। ভোরে কাজে বের হওয়া রিকশাচালক, দিনমজুর ও ফুটপাতের দোকানদারদের জন্য প্রতিদিনের শীত যেন এক যুদ্ধ। বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, তারা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করছেন।
চা বাগানের শ্রমিকরা জানিয়েছেন, ভেজা পাতার মধ্যে সকাল থেকে কাজ করতে হয়, অথচ পরিবারের অধিকাংশের কাছে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই। দেওড়াছড়ার চা বাগানের বৃদ্ধ শ্রমিক মুনি উড়াং বলেন, “বয়স হইছে, তারপরও কাজ করতে হয়। গরম কাপড় নেই, কষ্ট হয়। সরকার যদি সহায়তা করতো, ভালো হইত।”
এক রিকশাচালক বলেন, “ভোরে ঠান্ডা এত বেশি থাকে যে কাঁপাকাঁপা হাতে রিকশা চালাই। কাজ না করলে পরিবারের পেট চলে না।”
মুজিবুর রহমান আরও জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ৯-১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার কারণে দিনের বেলা রোদ না থাকায় শীতের তীব্রতা বাড়ছে।