
আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মেলিসা’ প্রবল বেগে ধেয়ে এসে ক্যারিবীয় অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ বেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৯৫ কিলোমিটার, যা এটিকে ক্যাটাগরি–৫ মাত্রার ঝড়ে পরিণত করেছে। এতে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি হয়েছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানিয়েছে, মেলিসা প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা ও ভূমিধস সৃষ্টি করেছে, ফলে বহু এলাকা প্লাবিত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জ্যামাইকা সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে।
দেশটির সরকার জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়েছে।
জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস বলেন, “মেলিসার ভয়াবহ প্রভাব আমাদের পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করেছে। এই ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত নই।” তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, কিউবা, হাইতি ও বাহামাসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে সহায়তা পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কিউবা সরকার ৭ লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে, আর বাহামা দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষকে আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।
মেলিসার প্রভাবে ১ হাজারের বেশি বাড়ি বন্যায় প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় ১২ হাজার মানুষ জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। আবহাওয়াবিদদের মতে, জ্যামাইকায় এখনও ভূমিধস ও অতিবৃষ্টির আশঙ্কা রয়ে গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি জ্যামাইকায় গত ১৭৪ বছরে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় এবং একে এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ঝড় হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।