
বৃষ্টিপাতের ফলে সাধারণত বাতাসের গুণমান উন্নত হয়। তবে সোমবার (২৮ জুলাই) ঢাকায় তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। টানা রাতভর বৃষ্টির পরও রাজধানীর বায়ুমান সূচক (একিউআই) আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সকাল ৯টার দিকে ঢাকার একিউআই স্কোর ছিল ৯২, যা গত কয়েক দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ।
একিউআই সূচক অনুযায়ী ৯২ স্কোর ‘মাঝারি’ পর্যায়ে থাকলেও এটি ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হয়ে ওঠার খুব কাছাকাছি। যেখানে ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে তা সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয়।
গতকাল একই সময়ে ঢাকার স্কোর ছিল ৫৮, যা ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো। এর আগের দিন (শনিবার) স্কোর ছিল ৬৯। অর্থাৎ দুই দিনের ব্যবধানে দূষণ বেড়েছে প্রায় ৫৮ শতাংশ। এ অবস্থায় বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান এখন ১৬তম।
অন্যদিকে, সোমবার তালিকার শীর্ষে রয়েছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা (একিউআই স্কোর ১৭৪)। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে বাহরাইনের মানামা (১৭৩) এবং কঙ্গোর কিনশাসা (১৭২)। ১৭১ স্কোর নিয়ে এরপরই রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর।
উল্লেখ্য, একিউআই স্কোর ৫০-এর নিচে থাকলে তা ‘ভালো’, ৫০-১০০ ‘মাঝারি’, ১০১-১৫০ ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১-২০০ ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১-৩০০ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের দূষণের ভিত্তিতে—বস্তুকণা (PM10 ও PM2.5), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO₂), কার্বন মনো-অক্সাইড (CO), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) এবং ওজোন (O₃)।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টির পরও যদি দূষণ না কমে, তবে এটি ঢাকার বাতাসে ধুলাবালি বা কেমিক্যাল ভিত্তিক দূষণের স্থায়িত্ব এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। সংবেদনশীল ব্যক্তি ও শিশুদের বাইরে দীর্ঘ সময় না থাকার পরামর্শও দিচ্ছেন তারা।