
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মতো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতেও দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে মেগাসিটি ঢাকা।
সোমবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ৭৮ একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) স্কোর নিয়ে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ২৩তম অবস্থানে রয়েছে। যদিও এদিন বায়ুদূষণের মাত্রা ছিল ‘মাঝারি’ পর্যায়ে, তবে এটি এখনও স্বাভাবিক বা নিরাপদ নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
একই সময়ের তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণে শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই (১৫৮ স্কোর)। এর পরেই রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর (১৫২), ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৫১), ভারতের দিল্লি (১৪৪) এবং ইসরাইলের জেরুজালেম (১১৭)।
আইকিউএয়ার অনুযায়ী: ০–৫০: ভালো, ৫১–১০০: মাঝারি, ১০১–১৫০: সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১–২০০: অস্বাস্থ্যকর, ২০১–৩০০: খুব অস্বাস্থ্যকর, ৩০১–৪০০: ঝুঁকিপূর্ণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১০০’র ওপরে একিউআই থাকলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে, বিশেষত শিশু, প্রবীণ ও শ্বাসযন্ত্রের রোগীদের জন্য। ২০০’র ওপর উঠলে তা শহরের সাধারণ মানুষকেও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণের ফলে হাঁপানি, ক্যানসার, হৃদরোগ, ফুসফুসের জটিলতা এবং নবজাতকদের জন্মগত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও যানবাহনে ঠাসা শহরগুলোর জন্য দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকর বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ নীতি গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। তাঁরা বলছেন, দূষণের মূল উৎস নির্মাণকাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।