ঢাকামঙ্গলবার , ১১ অগাস্ট ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. নিরাপদ সড়ক

বিগত এক যুগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৬ জন: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২১ অক্টোবর ২০২৫, ২:১৩ বিকাল

Link Copied!

বিগত এক দশকে দেশে ৬৭ হাজার ৮৯০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৬ জন নিহত এবং ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির দাবি, সড়কে এ ধরনের ধারাবাহিক প্রাণহানির দায় সরকারের ভুলনীতি, দুর্নীতি ও পরিবহন খাতের নৈরাজ্যের ফল।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেন সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের সড়কে ৬৭ হাজার ৮৯০টি দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে নিহত হয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৬ জন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১ জন।

২০১৪ সালে ৫ হাজার ২৮৮টি দুর্ঘটনায় মারা যান ৮ হাজার ৪৮৯ জন, ২০১৫ সালে দুর্ঘটনা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৫৮০টিতে- নিহত ৮ হাজার ৬৩২ জন।
২০১৮ সাল ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর, সে বছর ৫ হাজার ২২৫টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ২২১ জনের মৃত্যু ঘটে।
২০২২ সালেও পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়- ৬ হাজার ৮৩৩টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ৯২১ জন প্রাণ হারান।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্তই ৫ হাজার ১৭১টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬ হাজার ২৩ জন এবং আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৭৬৪ জন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর হার গড়ে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত। এই হিসাব ধরলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “স্বাধীনতার আগে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ নৌ ও রেলপথে চলাচল করত, সড়কপথে মাত্র ২০ শতাংশ। কিন্তু স্বাধীনতার পর দাতা সংস্থার শর্তে একের পর এক সড়ক নির্মাণের নামে বেহিসেবি লুটপাটের ফলে সড়ক এখন ৮০ শতাংশ মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। ফলে দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পরিবহন খাতে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি সড়কে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে।

ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল, অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের হাতে গাড়ি তুলে দেওয়া, বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, মাদকাসক্ত চালক এবং অযোগ্যদের লাইসেন্স প্রদান সড়ক ব্যবস্থাকে অচল করে দিয়েছে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও বলেন, “স্বাধীনতার পর অন্যান্য খাতে উন্নয়ন হলেও নিরাপদ ও সাশ্রয়ী নৌ ও রেলপথের ব্যবহার কমিয়ে সড়ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুরো পরিবহন ব্যবস্থা একমুখী করা হয়েছে। পথচারীদের জন্য নিরাপদ অবকাঠামো গড়ে না তোলায় মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ওবায়দুল কাদের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় ব্যর্থ হয়েছেন। সরকার পরিবর্তনের পরও পরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ ও ট্রাফিক বিভাগের নীতি অপরিবর্তিত থাকায় দুর্ঘটনার লাগাম টানা সম্ভব হয়নি।”

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান অন্তবর্তী সরকার উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিবন্ধনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা শুরু হলে এক বছরের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহর ‘অচল নগরীতে’ পরিণত হবে।

তারা বলেন, “সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে না আনলে যানজট, দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমানো যাবে না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া পরিবহন খাতে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ১২ দফা সুপারিশ তুলে ধরে:

১. নৌ ও রেলপথ পুনরুদ্ধার করে সমন্বিত পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
২. পরিবহনখাতে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা।
৩. ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভাগীয় শহরে সরকারি উদ্যোগে পাতাল মেট্রোরেল চালু করা।
৪. ডিজিটাল লেনদেন ভিত্তিক অন্তত দুটি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) লেন চালু করা।
৫. জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মানসম্পন্ন বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
৬. মোটরসাইকেল, ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা আমদানি ও বিপণন নিয়ন্ত্রণ করা।
৭. রাষ্ট্রীয় খরচে চালকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা।
৮. ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করা ও ট্রাফিক ট্রেনিং একাডেমি গড়ে তোলা।
৯. দুর্ঘটনার মামলা সরকারি উদ্যোগে আমলে নিয়ে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
১০. পরিবহন নীতি নির্ধারণে যাত্রী প্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
১১. পরিবহন খাতে আইনের সুশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
১২. সারাদেশে সাইক্লিস্ট ও পথচারীদের জন্য পৃথক লেন ও নিরাপদ ফুটপাত নির্মাণ করা।

বক্তারা বলেন, দেশের সড়কপথ এখন মানুষের জীবনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পরিণত হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা, সুশাসন ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ছাড়া এ নৈরাজ্য থেকে মুক্তি সম্ভব নয়। তারা সরকারের কাছে আহ্বান জানান – নিরাপদ সড়ককে জাতীয় অগ্রাধিকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

পুলিশকে জরিমানা করার ক্ষমতা দিলে গণপরিবহনে ধূমপান বন্ধ হবে

আমিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের ভিসা পুনর্বহালের দাবি

Realme C100X with new battery backup surprises

ব্যাটারি ব্যাকআপে নতুন চমক নিয়ে রিয়েলমি সি১০০এক্স

লঘুচাপের প্রভাবে টানা কয়েক দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

এইচ৫ বার্ড ফ্লু: ঝুঁকিপূর্ণ পাখিকে টিকা দেবে অস্ট্রেলিয়া

রাঙ্গামাটির ৩৮৯ বিদ্যুৎবিহীন বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা

শাহরাস্তিতে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩

যেভাবে বুঝবেন আপনার হাড় দুর্বল হচ্ছে কি না

চীনে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন, ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের সতর্কতা

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১১১

এক আগুন নিভতেই আরেক আগুন, ভয়াবহ দাবানলে যুক্তরাষ্ট্র