
বাংলাদেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা আবারও বাণিজ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিন স্থবির থাকা পাথর আমদানি ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে নেপালে নিয়মিতভাবে রপ্তানি হচ্ছে পাট, আলু ও প্লাস্টিক সামগ্রী। এতে বন্দরে কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাবান্ধা বন্দরের আমদানি কার্যক্রমের প্রায় ৯৫ শতাংশই পাথরের ওপর নির্ভর। চলতি অর্থবছরে ভারত ও ভুটান থেকে নিয়মিত পাথর আসছে, নেপালে রপ্তানি হচ্ছে দৈনিক ৬০–৭০ টন কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক সামগ্রী ও গার্মেন্টস। উদ্ভিদ সংরক্ষণ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৫ হাজার ২৪৬.৭৪ মে.টন পাট রপ্তানি হয়েছিল, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮ হাজার ৩০৯.৬০ মে.টনে নামলেও নেপালের বাজারে বাংলাদেশের লাল আলুর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাবান্ধা শুল্ক স্টেশনে রাজস্ব আদায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৬৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের মতে, অবকাঠামো দুর্বলতা, শুল্ক জটিলতা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয়ের অভাবে বন্দর এখনও তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, “একসময় কেবল পাথর আমদানির জন্য পরিচিত এই বন্দর এখন নেপালে আলু, পাট, কটন র্যাগস, ইলেকট্রনিক পণ্যসহ বহুবিধ পণ্য রপ্তানি করছে। এতে রাজস্ব বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান দু’ই বেড়েছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী রাশেদ আলী সরকার বলেন, “সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাবান্ধা দেশের প্রধান স্থলবাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হতে পারে।”