
ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর ভাঙা বেড়িবাঁধ মেরামত না হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। গত ৮ জুলাইয়ের ভয়াবহ বন্যায় এসব নদীর ৪২টি স্থানে বাঁধ ভেঙে পড়ে। পানি নামলেও প্রায় এক মাস পার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো এখনো মেরামত হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের বন্যার ক্ষত এখনো শুকায়নি। এরই মধ্যে আবারও টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীর পানি বাড়ছে। নদীর পাড়ে মেঘ দেখলেই আতঙ্কে ভোগেন তারা। বৃষ্টির পূর্বাভাস পেলেই আতঙ্ক আরও বাড়ে।
গত ২০ জুলাই বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হলেও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তা বন্ধ হয়ে যায়। ঠিক একদিন পর, ২১ জুলাই ভারতের উজানের পানির চাপে ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে পড়ে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম আবারও প্লাবিত হয়।
এ অবস্থায় দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের দাবিতে স্থানীয় জনগণ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। এর মধ্যে ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অভিমুখে পদযাত্রা। এর আগে পরশুরামে ৫৬টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অংশগ্রহণে মানববন্ধন হয়। প্রায় এক মাস ধরে চলছে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ।
পরশুরামের পশ্চিম অলকা গ্রামের বাসিন্দা মাসুম চৌধুরী বলেন, “আকাশে মেঘ জমলে শরীরে কাঁপুনি ধরে। বাঁধের ভাঙা স্থানে গিয়ে বসে থাকি, কখন আবার পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। প্রতিটি রাত আতঙ্কে কাটে।”
চিথলিয়ার আরেক বাসিন্দা শফিক আহম্মদ বলেন, “গত বছরের বন্যায় সব হারিয়েছি। বাঁশের বেড়ার ঘরে জোড়াতালি দিয়ে থাকছি। এখনও বাঁধ মেরামত হয়নি। ভারি বৃষ্টি হলেই বিপদ।”
পাউবোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘দি নিউ ট্রেড লিংক’-এর স্বত্বাধিকারী তাজুল ইসলাম বলেন, “পরশুরামের পশ্চিম অলকা গ্রামের মুহুরী নদীর ৮০ মিটার ভাঙা বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সরঞ্জাম ভেসে গেছে। পানি কমলে আবার কাজ শুরু হবে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তার হোসেন মজুমদার বলেন, “৮ জুলাইয়ের বন্যায় পরশুরামের ১৫টি স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে। ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শুরু করলেও ২০ জুলাই আবার নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পানি কমলেই পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।”
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে। আগামী কয়েকদিনও দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি আবারও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
গত ৮ জুলাইয়ের বন্যায় ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ার ১৩৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েক লাখ মানুষ। বিপুল পরিমাণ ফসল, ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বাঁধ মেরামত না করা হলে যে কোনো সময় আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে। তাই তারা টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছেন।