
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন মেট্রোরেল স্টেশনের সিঁড়ি ঘিরে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফুটপাতজুড়ে অস্থায়ী দোকান বসছে, আর সড়কের অর্ধেক জুড়ে থাকছে রিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেলের সারি। ফলে যাত্রী ও পথচারীদের চলাচল যেমন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে, তেমনি এলাকায় প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে যানজট।
মেট্রোরেলের সিঁড়ির পাশে জমজমাট খাবারের দোকান-ভাজাপোড়া, শরবত, পান-সিগারেটসহ নানা পণ্যে ভরে থাকে ফুটপাত। এসব দোকান পুরো পথ দখল করে রাখায় হাঁটার জায়গা পাওয়া যায় না। অন্যদিকে মেট্রো যাত্রীদের সুবিধা নিতে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো দাঁড়িয়ে থাকে সড়কের উপরেই। এতে এলাকা পরিণত হয়েছে এক ধরনের ‘অফিশিয়াল’ ওঠানামার স্থানে, অথচ নির্ধারিত কোনো পিকআপ বা ড্রপিং জোন নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদ বলেন, “মেট্রো থেকে নেমে বের হওয়ার পর হেঁটে যাওয়ার মতো জায়গা খুঁজে পাওয়া যায় না। ফুটপাথে হাঁটা যায় না, রিকশা দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তায়। সেদিক দিয়ে হাঁটাও বিপজ্জনক।”
পথচারী সেলিম হোসেনের অভিযোগ, এখানে কোনো পরিকল্পিত ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট নেই। তার ভাষায়, “যাত্রী বাড়ছে, কিন্তু পরিবহন বা চলাচলের কোনো পরিকল্পনা নেই।”
রিকশাচালক রফিক মিয়া জানান, যাত্রীদের কাছাকাছি গন্তব্যে নামানোর জন্য বাধ্য হয়েই তারা এখানে দাঁড়ান।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত পরিকল্পিত ড্রপিং জোন, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এবং ফুটপাত দখলমুক্ত না করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেবে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় যানবাহন ও দোকানের দখলে পথচারীদের চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তাদের মতে, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। পাশাপাশি বিকল্প ট্রানজিট ব্যবস্থা চালু করা হলে যাত্রীরা সহজে ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।