
রাজধানী ম্যানিলা ও আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যার কারণে এখন পর্যন্ত দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এএফপির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে মারিকিনা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং নদীর তীর ভেঙে পড়ে। ফলে মারিকিনা, কুইজন, ক্যালোকানসহ আশপাশের অঞ্চলগুলোতে তীব্র জলাবদ্ধতা এবং বন্যা দেখা দেয়। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে রাজধানী ও আশপাশের জেলাগুলোর স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করে।
নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে প্রায় ২৩ হাজার এবং কুইজন ও ক্যালোকান শহর থেকে আরও ২৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বন্যাকবলিতদের অধিকাংশই নিচু এলাকায় বসবাসকারী।
মারিকিনা উদ্ধার দপ্তরের কর্মকর্তা উইলমার ট্যান জানিয়েছেন, নদীর পানি ১৮ মিটার (৫৯ ফুট) পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিপজ্জনক মাত্রা অতিক্রম করেছে।
বন্যাকালীন এক দুর্ঘটনায় ক্যালোকানে একটি সেতু পার হওয়ার সময় এক বৃদ্ধ নারী ও তার গাড়িচালক খালের পানিতে ভেসে যান। জরুরি অপারেশন সেন্টারের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক জন পল নিয়েটস জানিয়েছেন, রাতেই গাড়িটি উদ্ধার করা গেলেও এখনো দুজনের সন্ধান মেলেনি। গাড়ির জানালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, তারা হয়তো বের হতে পেরেছিলেন।
সকালে বন্যার পানি কিছুটা নামলেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বহু মানুষ এখনো বাড়ি ফিরতে পারেননি। উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে সতর্ক অবস্থানে থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে দুর্যোগ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।