ঢাকাশনিবার , ৩০ মে ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. মতামত

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শরীর চর্চার শিক্ষক নিয়োগ অত্যন্ত জরুরী

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
৯ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

Link Copied!

সঙ্গীত শিশুর মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশে বড় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে প্রশান্ত করতে সাহায্য করে। দলগতভাবে সংগীতচর্চা সহযোগিতা, নেতৃত্ব, ও দলগত কাজের মানসিকতা গড়ে তোলার পাশাপাশি অন্যদের সঙ্গে একত্রে কিছু তৈরি করার আনন্দ দেয়। শিশুর ভাষা শেখার দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির পাশাপাশি “মন, মস্তিষ্ক এবং চরিত্র— তিনটিরই বিকাশ ঘটাতে সহায়ক সঙ্গীত। সেকারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত শিক্ষা শুধু বিনোদন নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মানসিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নের অংশ।

একটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রের শুভ জিনিসগুলো বিনষ্ট করার জন্য তৎপর। এই অশুভ গোষ্ঠী নিজেদের পছন্দ অপছন্দ জনগন ও রাষ্ট্রের উপর চাপিয়ে দিতে চায় । বিভ্রান্তি তৈরী করা এসকল গোষ্ঠীর চক্রান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। প্রকৃত সত্য তথ্য তুলে ধরে অস্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার ব্রত নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

সঙ্গীত শিশুদের শিশুদের সৃজনশীল চিন্তাভাবনা ও কল্পনাশক্তি বাড়ায়। তাদের নিজ নিজ দেশের ঐতিহ্য, লোকসংগীত, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত ও যুক্ত করে দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত করে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় গান ছিল একটি শক্তিশালী প্রেরণার মাধ্যম। মুক্তিযোদ্ধারা এবং শিল্পীরা গান গেয়ে যোদ্ধা, শরণার্থী ও সাধারণ মানুষকে সাহস, আশা ও দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত করেছিলেন।

একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইসলামের দোহাই দিয়ে ধর্ম এবং সঙ্গীতকে মুখোমুখি দাড় করিয়ে দেবার চেষ্টায় নিয়োজিত। অথচ ইসলামের ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে, ঈদে ও বিয়েতে আনসার নারীরা ঢোল বাজিয়ে গান গাইতেন, এবং মহানবী তাদের থামাননি (সহিহ বুখারী, সহিহ মুসলিম)। এতে বোঝা যায়, নৈতিকতা ও সীমার মধ্যে থাকা সঙ্গীত ইসলামে গ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ ইসলাম সঙ্গীতের উদ্দেশ্য, বার্তা ও প্রভাব অনুযায়ী বিচার করে। ইসলামী আলেম / চিন্তাবিদদের ব্যাখ্যা খুজে দেখলে জানা যায়, ইমাম আল-গাজ্জালি (রহ.) বলেছেন, “যে সঙ্গীত হৃদয়কে সৎ পথে অনুপ্রাণিত করে, তা জায়েয।” ইবনে হাজর আল-আসকালানি বলেছেন, “সব সঙ্গীত নয়, বরং অশালীন বা বিভ্রান্তিকর গান নিষিদ্ধ।”

ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, ইরান, মিসর, মরক্কো, তিউনিসিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান এসকল ইসলামী রাষ্ট্রে সরকারীভাবে সংগীত শিক্ষাকে প্রমোট করা হয়। কোথাও কারিকুলামে, কোথাও বিদ্যায় স্থাপনের মাধ্যমে সঙ্গীত শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। অতি সম্প্রতি,সৌদি সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে সংগীত শিক্ষা চালুর বড় পদক্ষেপ হিসেবে ১৭ হাজার নারী শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে। শিশুদের অল্প বয়স থেকে সংগীত ও শিল্পের সঙ্গে পরিচিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে সৃষ্টিশীল প্রতিভা গড়ে তোলা তাদের লক্ষ্য ।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যেমন- অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড সৃজনশীল শিল্প শিক্ষার অংশ হিসেবে সংগীত বাধ্যতামূলক করেছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ড শাস্ত্রীয় সংগীত ঐতিহ্য ও সরকারি কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অপরদিকে শরীরচর্চার গুরুত্ব বলার অপেক্ষা রাখে না, অ্যারিষ্ট্রটল এর মতে, সুস্থ্য দেহে সুন্দর মন তৈরী করাই শিক্ষা। দেহ সুস্থ থাকলে মনও প্রফুল্লময় ও আনন্দিত থাকে। শিশুদের সুস্থ শরীর ও মন গঠনের জন্য শারীরিক শিক্ষা ঠিক ততটাই প্রয়োজনীয়, যতটা গুরুত্ব বই পড়া। শিশুকাল থেকে শরীরচর্চার অভ্যাস শিশুর হাড়, পেশি ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঠিক বৃদ্ধিতে সহায়ক। বর্তমানে শিশুদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। শরীরচর্চা স্থুলতা, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

প্রতিটি কল্যাণ রাষ্ট্রে শরীর চর্চার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে দেশে প্রায় ৭০% মানুষ অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছে। এসব রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে মানুষ নিঃস হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসার পিছনে মোট ব্যয়ের ৭০% জনগণকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে। জনগণ ব্যায়ের অধিকাংশ বহন করার পরেও সরকার মাত্র ৩০% চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কোন বিকল্প নেই। আর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে শিশুকাল থেকেই সঠিকভাবে শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যে কাজটি শরীর চর্চার শিক্ষকরা সুনিপুণভাবে করতে পারে। কারণ প্রশিক্ষিত শরীরচর্চা শিক্ষক শিশুদের নিরাপদে, বয়স অনুযায়ী সঠিক শারীরিক বিকাশে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে।

শরীর এবং মন দুটি মিলেই স্বাস্থ্য। সারাবিশ্বে সুস্থ্যতা বলতে শুধু শারীরিক সুস্থ্যতাকে বোঝানো হয় না। এর সাথে মানসিক সুস্থ্যতাও অত্যন্ত জরুরী। সুস্থ শরীর শিশুকে যেমন শিক্ষার প্রতি আগ্রহী, মনোযোগী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তেমনি সংগীত শিশুদের মানসিক, আবেগীয় ও সৃজনশীল বিকাশে সহায়তা করে। সুতরাং পুথিগত শিক্ষার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ, সৃজনশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ভিত্তি শক্তিশালী করতে সংগীত ও শরীর চর্চা শিক্ষার প্রতিও রাষ্ট্রের নিজস্ব উদ্যোগ থাকা জরুরী।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

লঘুচাপের প্রভাবে ৫ দিনজুড়ে বৃষ্টি-ঝড়ের আভাস

রবি এলিট প্রোগ্রামে আরও ১৬ ব্র্যান্ড, মিলবে ৫২% পর্যন্ত ছাড়

With 16 New Brands, Robi Elite Offers Up To 52% Discount

অপো এ সিরিজকে নম্বর ১ স্মুথনেস, ব্যাটারি লাইফ ও ডিউরেবিলিটির স্বীকৃতি দিলো বুয়েট

Universal Birth-Death Registration Accelerates SDGs

শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এসডিজি অর্জনে সহায়ক

ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপ চালু হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

প্রকৃতি ও জীব-বৈচিত্র্য বেঁচে থাকলে আমরাও বাঁচব- জীব-বৈচিত্র্য দিবসে বক্তারা

Apex Footwear introduces ‘Buy Online, Pick-up in Store’ (BOPIS) service ahead of Eid ul-Azha

ঈদে ক্রেতাদের সুবিধায় ‘এক্সপ্রেস ডেলিভারি’ ও ‘পিকআপ’ সেবা চালু করল এপেক্স

Recommendation to ban unfit Motor vehicles for safe Eid travel

নিরাপদ ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের সুপারিশ