
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৩ জন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৩০০ জন। বৃষ্টিজনিত দুর্যোগে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) পাঞ্জাবের একাধিক জেলায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
পাঞ্জাব ওয়াসার মহাপরিচালক তৈয়ব ফরিদ জানান, রাওয়ালপিন্ডি, চাকওয়ালসহ আশপাশের অঞ্চলে প্রবল বর্ষণে নদ-নদীর পানি উপচে পড়েছে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (PDMA) জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে লাহোরে, সেখানে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফয়সালাবাদে ৯ জন, সাহিওয়ালে ৫ জন, পাকপত্তনে ৩ জন এবং ওকারায় ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেন, “অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। জনগণকে সাইরেন এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করা হচ্ছে।” একই সঙ্গে তিনি নাগরিকদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তর (PMD) আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে বজ্রসহ ঝড়ো বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ও খোলা ম্যানহোল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
রেসকিউ পাঞ্জাবের মুখপাত্র ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, ধোক বাদর, ধোক শাহ আরিফ, সোহাওয়া, রসুলপুর, চক মুহাম্মদ ও ভাম্পার গ্রামের বন্যাকবলিত মানুষদের উদ্ধারে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৭ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ৫০টির বেশি উদ্ধারকারী নৌকা এ কাজে যুক্ত রয়েছে।
এছাড়া, উদ্ধার কাজে পাকিস্তান সেনাবাহিনীও যুক্ত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছরই প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। এতে নিয়মিতভাবেই বন্যা ও ভূমিধসের মতো বিপর্যয় ঘটে। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় দেশটির এক-তৃতীয়াংশ ডুবে গিয়েছিল এবং ১ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
এই বছরের দুর্যোগ পরিস্থিতিও ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।