
উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রমত্তা পদ্মা ও যমুনা নদীতে শুরু হয়েছে অকাল ভাঙন। নদীর বাম তীর ঘেঁষা বিস্তীর্ণ এলাকায় একের পর এক আবাদি জমি ও বসতভিটা বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীগর্ভে। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ।
মানিকগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ভাঙন
মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার মালঞ্চি, কুশিয়ার চর, গৌরবিদ্ধা, তেওতা, বাঁচামারা, বাগুটিয়া, চরকাটারি ও জিয়ানপুর এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি।
গত বছর কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি কাজ করা হলেও তা এখন নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে অনেকেই ফসলি জমি ও বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের আহাজারি
ভাঙনের শিকার পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, “তিনবার বাড়ি ভেঙে গেছে, আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। এখন কোথায় যাব? ছোটবেলা থেকেই শুনছি বাঁধ হবে, কিন্তু তা শুধু আশ্বাস।”
আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, “জীবন শেষ হয়ে এল, বয়স ৫০ বছর। নদী ভাঙনের সঙ্গেই বসবাস করছি। সবকিছুই শেষ, একটুখানি বাড়ি ছিল সেটাও ভেঙে যাচ্ছে।”
স্থানীয় খাতুন নামের এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোট এলে সবাই প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ দেখি না।”
পাউবো’র বক্তব্য
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান জানান, জেলায় ১৪টি স্থানে পদ্মা ও যমুনার বাম তীরে বর্ষার আগেই ভাঙন শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, “আপাতত ৯০ মিটার এলাকায় কাজের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কুশিয়ার চরে ৬০ মিটার ও শিবালয়ের তেওতায় ৩০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে আপৎকালীন রক্ষার চেষ্টা চলছে। বরাদ্দ অনুযায়ী অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেও কাজ করা হবে।”
স্থায়ী সমাধানের দাবি
তিনি আরও জানান, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে চারটি প্রকল্প সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ-১ ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর ও মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বলেন, আপাতত জরুরি কাজ চলছে। শুষ্ক মৌসুমে বাম তীর রক্ষায় বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।