
নোয়াখালীতে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি। জেলার সদর, সুবর্ণচর, হাতিয়া, কোম্পানীগঞ্জ ও বেগমগঞ্জসহ প্রায় সব উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা ডুবে যাচ্ছে পানিতে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, মেঘনা নদী ও এর শাখা নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে নদীর বাঁধ উপচে পানি ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে। ডুবে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট। জেলা সদরের মাইজদী ও সোনাপুরসহ শহরের অনেক এলাকাতেও দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।
কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষতি
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিখাত। অনেক রোপা আমন ধান ও সবজির জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। পানিতে ভেসে গেছে বহু মাছের ঘের ও পুকুরের মাছ। ফলে ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে
বন্যার কারণে জেলার বহু গ্রামের সঙ্গে শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ বহু রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। স্যানিটেশন ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে, ফলে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে হাজারো মানুষ
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সদর, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ২১৬টি পরিবার। মোট ৬৩ হাজার ৮৬০ জন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করছেন।
প্রশাসনের প্রস্তুতি ও ত্রাণ কার্যক্রম
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন খুলেছে একাধিক আশ্রয়কেন্দ্র। শুরু হয়েছে উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম। দুর্গতদের মধ্যে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। গঠিত হয়েছে মেডিকেল টিম, যারা পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে কাজ করছে।
সামনে আরও বিপদের শঙ্কা
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
স্থায়ী সমাধানের দাবি
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নোয়াখালীতে এমন জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। তারা দ্রুত ও পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।