
টানা দুই দফা দাম কমার পর আবারও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। একই সঙ্গে রুপার দামও ভরিতে ২৯১ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানায়। নতুন দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। অলঙ্কারের ডিজাইনভেদে মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। এছাড়া অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আগের নিয়ম বহাল থাকবে।
এর আগে গত ৩০ জুন বাজুস ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৮৫ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪২ বার দাম বেড়েছে, ৪২ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল।
এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়িয়েছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ২৯১ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৭৮২ টাকা।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ৫২ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ বার দাম বেড়েছে এবং ২৬ বার কমেছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ১৩ বার। যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং ৩ বার কমেছিল।