
বরগুনার পাথরঘাটায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ বিএফডিসি মৎস্য বন্দরে গত তিন দিন ধরে তীব্র ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। এতে শত শত ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যেতে পারছে না। ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে এমন পরিস্থিতিতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জেলে ও ট্রলার মালিকরা।
ট্রলার ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, সাধারণত প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত জেলেরা বন্দরে মাছ বিক্রি করে প্রয়োজনীয় রসদ ও জ্বালানি সংগ্রহ করে ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে পাড়ি জমান। তবে ডিজেল সংকটের কারণে বর্তমানে অনেক ট্রলার মাছ বিক্রি করে ঘাটেই বেঁধে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন জেলেরা।
পাথরঘাটার ট্রলার ব্যবসায়ী মাসুম কোম্পানির প্রতিনিধি জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কার খবরে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কিছু তেল ব্যবসায়ী বেশি দামে বিক্রির আশায় তেল মজুত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ফলে গত তিন দিন ধরে মহাজনদের কাছ থেকে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় জেলে জাকির বিশ্বাস বলেন, বাজারের দোকানগুলোতে তেল থাকলেও সাধারণ জেলেদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে না। অতিরিক্ত টাকা দিলে তবেই ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে মাছ ধরে কিছু টাকা আয় করার আশা ছিল। কিন্তু তেল সংকটে এবার সেই আশা পূরণ নাও হতে পারে।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, পাথরঘাটার বেশ কয়েকটি জ্বালানি তেলের দোকানে পর্যাপ্ত তেল থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি দামের আশায় তা গোপনে মজুত করে রেখেছে। এতে সমুদ্রে যাওয়ার মতো জ্বালানি না পেয়ে অনেক ট্রলার ঘাটে বসে আছে। এ অবস্থায় দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
অন্যদিকে, পাথরঘাটার তেল ব্যবসায়ী ফারুক ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী ফারুক হাওলাদার বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের ডিপো থেকে কোটাভিত্তিক তেল সরবরাহ করা হয়। পাথরঘাটায় প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে মোটে প্রায় পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, লাইসেন্সবিহীন কিছু দোকান গ্রামাঞ্চলে অল্প পরিমাণ তেল মজুত করে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার বলেন, কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যদি জ্বালানি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।