
তীব্র গরমের অবসানের পর রাজধানীজুড়ে নেমেছে ঝুম বৃষ্টি, যা নগরবাসীর জনজীবনে এনেছে স্বস্তির পরশ। শনিবার (২ মে) দুপুরের পর থেকেই ঢাকায় শুরু হয়েছে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি। বৃষ্টির ফলে নগরজীবনে একদিকে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে সাময়িক ভোগান্তি।
দুপুর ২টার পর থেকেই রাজধানীর আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই দমকা হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় বজ্রসহ বৃষ্টি। মুহূর্তেই শহরের তাপমাত্রা কমে গিয়ে আবহাওয়ায় শীতলতার অনুভূতি তৈরি হয়।
আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য ও স্থানীয় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঢাকার প্রায় সব এলাকায়ই কম-বেশি বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হালকা আবার কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
উত্তর ঢাকা: উত্তরা, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত ও কুড়িল এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হয়েছে, এতে সড়কে যান চলাচল কিছুটা ব্যাহত হয়।
মিরপুর এলাকা: মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১২ এবং পল্লবী এলাকায় বজ্রসহ মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তায় পানি জমে যানবাহনের গতি কমে যায়।
মধ্য ঢাকা: কাওরান বাজার, ফার্মগেট, পান্থপথ ও ধানমন্ডি এলাকায় বৃষ্টির কারণে যানজট ও ধীরগতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। অফিসফেরত মানুষদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
দক্ষিণ ও পূর্ব ঢাকা: মতিঝিল, গুলশান, বনানী, বাড্ডা এবং পুরান ঢাকার বিভিন্ন অংশেও ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও হালকা জলাবদ্ধতা দেখা গেছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
হঠাৎ এই বৃষ্টিতে রাজধানীর সড়কগুলোতে যান চলাচল কিছুটা ব্যাহত হয়। বিশেষ করে অফিস শেষে বাড়ি ফেরার সময় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে রিকশা ও গণপরিবহনের চলাচল ধীর হয়ে যায়।
তবে দীর্ঘ কয়েকদিনের তীব্র গরমের পর এই বৃষ্টি রাজধানীবাসীর জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। অনেকেই বলছেন, এই বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কমে গিয়ে আবহাওয়ায় আরামদায়ক পরিবর্তন এসেছে।