ঢাকামঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

তামাক কোম্পানির সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২১ জুলাই ২০২৫, ৬:৩২ বিকাল

Link Copied!

‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া পরিমার্জনের জন্য গঠিত উপদেষ্টা কমিটি তামাক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক চুক্তি ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি)’ এর ধারা ৫.৩-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং উপদেষ্টা কমিটির এমন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা আহছানিয়া মিশন।

সোমবার (২১ জুলাই’২৫) ঢাকা আহছানিয়া মিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিমালার ক্ষেত্রে তামাক কোম্পানির স্বার্থ থেকে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখা এফসিটিসিতে স্বাক্ষরকারী প্রতিটি দেশের দায়িত্ব। সেখানে উল্লেখ আছে, তামাক শিল্পের স্বার্থ ও জনস্বাস্থ্য নীতির স্বার্থের মধ্যে মৌলিক ও আপসহীন সংঘর্ষ রয়েছে। তাই, তামাক কোম্পানি বা তাদের সহযোগিতায় প্রণীত কোনো তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বা নীতির খসড়া বা সহায়তার প্রস্তাব সরকার গ্রহণ, সমর্থন বা অনুমোদন করতে পারবে না। কারণ, একটি পক্ষ চায় তামাক পণ্যের বিস্তার ও মুনাফা, আর অন্য পক্ষের লক্ষ্য সেই পণ্যজনিত ক্ষতি থেকে জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

অথচ ১৩ জুলাই অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশের ওপর তামাক কোম্পানিগুলোর মতামত গ্রহণ করা হবে।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ জানান, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী এবং তা তামাক শিল্পকে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দেবে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতাই ভঙ্গ করে না, বরং দেশের দীর্ঘদিনের তামাক নিয়ন্ত্রণ অগ্রগতির পথেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি আরও বলেন, রাজস্ব ক্ষতির অজুহাতে তামাক কোম্পানির পরামর্শ গ্রহণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তামাকজাত পণ্যের কারণে রাষ্ট্র যে অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তা রাজস্ব আয়ের তুলনায় বহু গুণ বেশি। তাই উপদেষ্টা কমিটির এ সিদ্ধান্ত শুধু অযৌক্তিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ও নৈতিকতার বিরুদ্ধেও অবস্থান নেয়।

বিশ্বব্যাপী গবেষণায় প্রমাণিত, তামাক শিল্প নানা কৌশলে নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করে, যাতে জনস্বাস্থ্যের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ মারা যায় এবং কয়েক লাখ মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করে। এর ফলে স্বাস্থ্য খাতে বিপুল অর্থব্যয় হয় এবং জাতীয় উৎপাদনশীলতাও ব্যাহত হয়। অথচ অর্থ উপদেষ্টা বৈঠকে মত দেন যে, রাজস্ব আদায়ের ধারা অব্যাহত রাখতে তামাক কোম্পানিগুলোর মতামত নেওয়া প্রয়োজন। এই অবস্থান জনস্বাস্থ্যের চেয়ে আর্থিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়ার একটি ভুল দৃষ্টান্ত।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশে তামাক কোম্পানির কোনো প্রকার মতামত, পরামর্শ বা অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা যাবে না। এফসিটিসির ধারা ৫.৩ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং সংশোধিত অধ্যাদেশটি দ্রুত চূড়ান্ত করে অধ্যাদেশ আকারে জারি করতে হবে। শুধু জনস্বাস্থ্যের স্বার্থেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর জীবন নিশ্চিতে এটি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

কুষ্টিয়ায় সিগারেট কারখানায় অভিযান, জব্দ ১০ হাজার শলাকা

নেপালে অবতরণের সময় দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ১

বুয়েটের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হলেই মিলবে ই-রিকশার নিবন্ধন

সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হলে ডিলারশিপ বাতিল: কৃষিমন্ত্রী

গ্যাস সংকটের মধ্যে নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসের সন্ধান

এক দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি

হিমালয়ে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা, ঝুঁকির মুখে প্রায় ৩ লাখ মানুষ

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জরুরি প্রস্তুতি, কীসের আশঙ্কায় খাবার-পানি মজুতের পরামর্শ?

ঢাকায় মেঘলা আকাশ, আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক

প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র প্রভাবে ৪ সমুদ্রবন্দরে হুঁশিয়ারি সংকেত

পাঁচ দিন শুষ্ক থাকতে পারে দেশের আবহাওয়া, কমতে পারে তাপমাত্রা

ক্যানসার চিকিৎসায় ১৭টি লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর বসানোর উদ্যোগ সরকারের