
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সুপার টাইফুন রাগাসা ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে তাইওয়ান ও হংকংয়ে। এতে এখন পর্যন্ত তাইওয়ানে ১৮ জনের মৃত্যু এবং অন্তত ১২৪ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের প্রভাবে হংকংয়ে শুরু হয়েছে প্রবল বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টি। নিরাপত্তার স্বার্থে জনসাধারণকে ঘরে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে শত শত ফ্লাইট।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে ফিলিপিন্সের উত্তরে কাগায়ান প্রদেশের পানুইটান দ্বীপে ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে রাগাসা। এরপর এটি ধেয়ে যায় তাইওয়ান, হংকং ও চীনের উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে।
তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় হুয়ালিয়েন কাউন্টিতে প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি হ্রদের পানি উপচে পড়লে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে গুয়াংফু শহরে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ নিখোঁজ হন। শহরটির একটি প্রধান সেতু ভেঙে পড়ায় পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দামা গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় এক হাজার মানুষ সেখানে আটকা পড়েছেন।
এদিকে বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাগাসার আগাম প্রভাবে হংকংয়ে শুরু হয় দমকা হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টি। উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসে রাস্তাঘাট ও সৈকত ডুবে যায়। শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়, বন্ধ থাকে সরকারি কার্যক্রম এবং লোকজনকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ঝড়টি বর্তমানে চীনের গুয়াংডং প্রদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের বসবাস এই প্রদেশে। ইতোমধ্যে ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে উপকূলীয় এলাকায়।
আবহাওয়াবিদদের মতে, রাগাসা ২০২৫ সালের সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। এতে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে, নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এই দুর্যোগে কোটি কোটি মানুষের ওপর আর্থিক প্রভাব পড়বে।
সূত্র: রয়টার্স