
ঢাকা, দেশের রাজধানী ও জনসংখ্যার ঘনত্বের শহর, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু প্রাকৃতিক কম্পন নয়, বরং একটি বড় ভূমিকম্পের পূর্বসংকেতও হতে পারে।
ঢাকা অবস্থিত ইউরেশিয়া ও ভারতীয় প্লেটের সংযোগস্থলে, যা একাধিক সক্রিয় ফল্টের সংস্পর্শে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: সিলেট-ঢাকা-চট্টগ্রাম ফল্ট, পদ্মা ফল্ট এবং মধুপুর-আশুগঞ্জ ফল্ট। এই ফল্টগুলো ভূ-স্তরের চাপ ও টেকটোনিক আন্দোলনের কারণে মাঝে মাঝে কম্পন সৃষ্টি করে।
গত এক মাসে ঢাকাসহ চার-পাঁচটি বিভাগে কমপক্ষে ৪.৫ থেকে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) ও ইউরোপিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC)-এর তথ্য অনুযায়ী, উৎপত্তিস্থল বেশিরভাগই মিয়ানমার বা সিলেট অঞ্চলের নিকটবর্তী ফল্ট থেকে এসেছে, যা ঢাকার জন্য প্রভাব ফেলতে পারে।
ঢাকা শহরটি ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েকটি কারণে। এক, শহরের জনসংখ্যা ঘনত্ব বেশি হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে। দুই, শহরের পুরনো ভবন বিশেষ করে ১৯৯০-এর আগে নির্মিত ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনশীল নয়। তিন, ঢাকার নরম মাটি কম্পন আরও বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ছোট মাত্রার ভূমিকম্প ঘন ঘন ঘটলে তা বড় ভূমিকম্পের পূর্বসংকেত হতে পারে।
তাই প্রয়োজন যথাযথ প্রস্তুতি ও সতর্কতা। নিরাপদ স্থানের পরিকল্পনা করা, পুরনো ভবনের মেরামত ও ঝুঁকি মূল্যায়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি সরঞ্জাম যেমন খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও যোগাযোগের ব্যাকআপ রাখা জরুরি।
উপসংহার হিসেবে বলা যায়, ঢাকায় ঘনঘন ভূমিকম্প কেবল প্রাকৃতিক কম্পন নয়, বরং বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনার ইঙ্গিত। শহরের নরম মাটি, পুরনো ভবন ও জনসংখ্যার ঘনত্ব মিলিয়ে ঝুঁকি অত্যন্ত উচ্চ। তাই সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনগণকে সতর্কতা ও প্রস্তুতিতে একসাথে কাজ করতে হবে, নইলে ভবিষ্যতের বড় ভূমিকম্প মানুষের জীবন ও শহরের অবকাঠামোতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।