
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের কেরি কাউন্টিতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ জনে। গুয়াদালুপে নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় শত শত মানুষ পানির তোড়ে ভেসে যান। এখনো অনেকেই নিখোঁজ, যাদের মধ্যে খ্রিস্টান মেয়েদের গ্রীষ্মকালীন শিবির ‘ক্যাম্প মিস্টিক’-এর ১০ কিশোরীও রয়েছে।
উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৬৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২৮টি শিশুর মরদেহ। শুক্রবার (৪ জুলাই) রাতের বৃষ্টিতে মাত্র ৪৫ মিনিটে নদীর পানি ২৬ ফুট বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় তৈরি করে।
টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা নতুন করে প্রাণঘাতী বন্যার আশঙ্কা তৈরি করছে। ইতোমধ্যে কেরি কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গুয়াদালুপে নদীর তীরবর্তী ক্যাম্প মিস্টিকে ৭৫০ জনের বেশি শিশু অবস্থান করছিল। এখনো অনেকে নিখোঁজ। হেলিকপ্টার ও ড্রোনের সহায়তায় এখন পর্যন্ত ৮৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অনেকেই গাছের ডালে আটকে ছিলেন বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, শত শত উদ্ধারকর্মী, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সংস্থাগুলো উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজদের সন্ধানে ছবি ও বার্তা পোস্ট করছেন স্বজনরা।
বিপর্যয়ের জন্য অনেকে ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট কমানোর সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, আবহাওয়া বিভাগের সক্ষমতা কমে যাওয়ায় সময়মতো সতর্কতা পৌঁছায়নি। তবে স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর দাবি করেছে, ১২ ঘণ্টা আগেই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
এখনো নিখোঁজ থাকা শিশুদের ভাগ্য নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। টেক্সাসের হিল কান্ট্রি অঞ্চলের অর্থনীতি অনেকটাই নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। শতবর্ষ পুরনো এই অঞ্চলটি প্রতি বছর হাজারো শিশু ও পর্যটকের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে ওঠে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা স্থানীয় ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। এই ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের প্রার্থনা ও সমবেদনা রইল।”