
টানা ভারী বর্ষণে ফেনীতে আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার ফুলগাজী উপজেলার মুহুরী নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুটি দোকান নদীতে ভেসে গেছে এবং নদী তীরবর্তী রাজসপুর সড়ক ভেঙে ফুলগাজী বাজার থেকে ওই সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে সতর্কতা হিসেবে ফেনীর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সকল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
তবে শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষাগুলো স্থগিত হয়নি— এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রজ্ঞাপন পাওয়া যায়নি।
ফেনী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) জেলায় ১৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। এই অতিবৃষ্টির ফলে শহরের অধিকাংশ এলাকা জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়েছে।
শহরের শাহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার রোড, রামপুর শাহীন একাডেমি এলাকা, পাঠান বাড়ি, নাজির রোড ও পেট্রোবাংলা এলাকার সড়কগুলো তিন থেকে চার ফুট পানিতে ডুবে আছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
ফেনী সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অনার্স সমাপনী বর্ষের পরীক্ষার্থী খালেদুল আশরাফ বলেন, “আজ দুপুর ২টা থেকে পরীক্ষা থাকার কথা। কিন্তু রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে, কোনো পরিবহন নেই, বোর্ড থেকেও কোনো নির্দেশনা আসেনি— এখন পরীক্ষা দিতে যাই কীভাবে?”
এদিকে, ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিয়া ইসলাম জানান, মুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি ও বাঁধ ভাঙনের কারণে অন্তত দুটি দোকান নদীতে ধসে গেছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ফেনী সদর ইউএনও সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, “বেশিরভাগ স্কুলে সান্মাসিক পরীক্ষা চলমান। কিন্তু স্কুল ও সড়কে পানি ওঠায় অনেক প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা স্থগিত করেছে।”
গত বছরের ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি থেকে এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে না উঠলেও নতুন করে এমন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি অবনতি হলে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।