ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

টানা এক সপ্তাহের হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির জয়পুরহাট

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩:০৪ বিকাল

Link Copied!

টানা এক সপ্তাহ ধরে পশ্চিমা বাতাসের প্রভাবে হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জয়পুরহাটের জনজীবন। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত জেলার সর্বত্র শীতের তীব্রতা জেঁকে বসেছে। ঘন কুয়াশার সঙ্গে শীতের প্রকোপ আরও বেড়ে গেছে। বৃষ্টির পানির মতো ঝরছে কুয়াশা, ভিজে যাচ্ছে পাকা সড়কও।

আজ বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সূর্যের কোনো দেখা মেলেনি। ফলে ছিন্নমূল ও বস্তিবাসী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে কৃষকরা আলুর ক্ষেত ও আগাম ইরি-বোরো রোপণের কাজ করতে গিয়ে পড়েছেন বড় ধরনের বিপাকে।

ঘন কুয়াশার কারণে জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কসহ জেলার বিভিন্ন সড়কে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। যাত্রী সংকটে পড়েছে দূরপাল্লার বাসগুলো। জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই বের হচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ।

নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম জানান, বুধবার ভোর ৬টায় জয়পুরহাট ও পার্শ্ববর্তী নওগাঁর বদলগাছীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৯টা পর্যন্ত তাপমাত্রা অপরিবর্তিত ছিল। গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ তাপমাত্রা কম এবং কুয়াশার ঘনত্ব বেশি। হালকা বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরছে।

কালাই উপজেলার পাঁচশিরা বাজারের ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম বলেন, “শীত যেমন-তেমন, তার ওপর আজ ঘন কুয়াশায় বাড়ি থেকে বের হওয়াই মুশকিল। বৃষ্টি হলে যেমন শরীর ভিজে যায়, ঠিক তেমনই হচ্ছে। তারপরও জীবিকার তাগিদে বের হতে হচ্ছে। রাস্তায় লোকজন খুব কম।”

জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কে চলাচলকারী বিআরটিসির বাসচালক মুহিবুল ইসলাম বলেন, “গত এক সপ্তাহ ধরে একই অবস্থা। কুয়াশা কমে না। দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে বাস চালাতে হচ্ছে। যাত্রী নেই বললেই চলে। এভাবে চলতে থাকলে বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।”

শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের গেটে কথা হয় পাঁচবিবি উপজেলার দানেজপুর গ্রামের আব্দুল বারিকের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে তার এক প্রতিবেশী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের তুলনায় মঙ্গলবার বিকেল থেকে শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েছে। নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। আবার অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, “কয়েকদিনের তীব্র ঠান্ডার কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শীতের সময় শিশু ও বয়স্কদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

নওগাঁয় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ব্যাংক কর্মচারীর মৃত্যু

সপ্তাহজুড়ে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া? জানাল অধিদপ্তর

স্তনবৃন্তে স্পর্শ করলেই কেন হঠাৎ মন খারাপ, কী এই ‘স্যাড নিপল সিনড্রোম’?

upay Rewards Three Distributor Partners with Umrah Packages under ‘Shopner Umrah 2026’ Campaign

উপায়ের ‘স্বপ্নের ওমরাহ’ ক্যাম্পেইনে পুরস্কার পেলেন ৩ ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার

সাতক্ষীরায় ৭৫ শতাংশ জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবার তীব্র খাদ্য সংকটে

মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

হাসপাতাল নেই ৬০ গ্রামে, অসুস্থ হলে আট ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি

চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

ঢাকায় শুষ্ক আবহাওয়া, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু রক্ষায় ১২ সংস্থার সঙ্গে ইউএনডিপির চুক্তি

সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভা