
কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ৭ ইউনিয়নের প্রায় চার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রোববার রাতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার (৫২.১৫ সেন্টিমিটার) ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।
সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকেই নদীবেষ্টিত এলাকা, বিশেষ করে গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, লালমনিরহাট এবং কুড়িগ্রামের নদীপারের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ে। পানি বৃদ্ধির কারণে মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র এবং গবাদিপশু উঁচু স্থানে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে হচ্ছে।
নিহিত এলাকাগুলো হলো নোহালী ইউনিয়নের মিনার বাজার, বাগডোহরা, বৈরাতী, চর নোহালী, আলমবিদিতরের হাজীপাড়া, ব্যাংকপাড়া, কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা চর, মটুকপুরচর, চিলাখাল চর, লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ইচলী, শংকরদহ, কলাগাছি, কাশিয়াবাড়ি, গজঘণ্টা ইউনিয়নের ছালাপাক, গাউসিয়া বাজার, এবং মর্নেয়া ইউনিয়নের মর্নেয়ার চর।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে তিস্তার পানি বাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ফসল, মৎস্য খামার এবং রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। চরাঞ্চলের মানুষ নৌকায় চলাচল করছেন। গাউসিয়া বাজারের আব্দুস সালাম বলেন, “হঠাৎ বন্যায় আমরা বিপদে পড়েছি। আমাদের ক্ষেতের ফসল ও আর্থিক সম্পদ নষ্ট হয়েছে।”
গজঘণ্টা ইউনিয়নের ছালাপাকের রমিজ উদ্দিন মন্তব্য করেন, “এবার হঠাৎ বন্যায় মৎস্য খামার, ধানখেত এবং সবজি ক্ষেত ডুবে গেছে। বারবার নিঃস্ব হচ্ছি।” শংকরদহ এলাকার আকমল হোসেন বলেন, “তিস্তা নদীর পানি কথায় কথায় বাড়ে। যদি তিস্তা চুক্তি কার্যকর হতো, হয়তো এই সমস্যা হতো না।”
নোহালী ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলী জানান, তার ইউনিয়নে ৮০০ পরিবার পানিবন্দি হয়েছেন। লক্ষীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, তার ইউনিয়নে ১২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, পানিবন্দি পরিবারদের জন্য ১২ মেট্রিকটন চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং উপজেলা প্রশাসন আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে স্থানীয়দের নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। প্রশাসন নদীর পারে মাইকিং ও সতর্কতা জারি করছে। ইউএন কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “ঘূর্ণিঝড় এবং নদীর পানি বৃদ্ধি একসাথে এলাকা জলোচ্ছ্বাসে দুর্বিষহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।”