
টানা বৃষ্টিতে খুলনা নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি তলিয়ে গেছে। শহরের বেশিরভাগ এলাকাই এখন হাঁটুপানি বা তার বেশি গভীরতায় পানিতে ডুবে আছে। জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল, ব্যবসা ও শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নগরবাসীর অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম না থাকায় প্রতিবছরই বর্ষা এলেই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
টুটপাড়া, রয়েল মোড়, মিস্ত্রিপাড়া, খালিশপুর, নিউ মার্কেট, শান্তিধাম মোড়, দিলখোলা রোড, পূর্ব বানিয়া খামার, বসুপাড়া, ফুলবাড়ি গেট, আলমনগর, মুজগুন্নি আবাসিক এলাকা ও রূপসা এলাকার অলিগলিতে পানি জমে গেছে। এসব এলাকার সড়ক ও বাসাবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পানি উঠে ক্ষতির মুখে পড়েছে মালিকরা।
খুলনা সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি প্রকল্পে প্রায় ১,৪৮৩ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে একটি ছিল ৮২৩ কোটি টাকার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প, অন্যটি ৬৬০ কোটি টাকার সড়ক মেরামত প্রকল্প। যদিও কেসিসি বলছে কাজ প্রায় শেষ, বাস্তব চিত্র তার উল্টো।
নগরবাসীর ক্ষোভ ও হতাশা
বয়রা মুজগুন্নির বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, “ড্রেন আর রাস্তায় কোনো পার্থক্য নেই। পানিতে একাকার হয়ে গেছে। মনে হয় সমস্যা এবার আরও বেড়েছে।”
টুটপাড়ার শফিকুল ইসলাম বলেন, “সিটি করপোরেশন যদি সমাধান না করতে পারে, তাহলে অন্য কোনো দপ্তরকে দায়িত্ব দিক।”
নিউ মার্কেটের হাসিব হাসান ব্যঙ্গ করে বলেন, “ড্রেনে পানি না গিয়ে উল্টো নদীর পানি ড্রেনে উঠে আসে মনে হয়! খুলনায় শুধু খোঁড়াখুঁড়ি চলে, সমাধান নয়।”
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “জলাবদ্ধতা খুলনার স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছর বছর কোটি কোটি টাকার প্রকল্প হলেও কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ছাপ নেই।”
সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার জানান, “নতুন প্রকল্পে স্লুইচ গেট ও পাম্প হাউস বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ড্রেন যতই বানানো হোক, পরিষ্কার না করলে জলাবদ্ধতা কমবে না।”