ঢাকারবিবার , ১৪ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ

কার্বনের ৮০ গুণ গতিতে পৃথিবীকে পুড়িয়ে মারছে যে গ্যাস

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১৪ জুন ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ

Link Copied!

হাসান মাহমুদ: জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা মোকাবিলায় কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। গ্রিনহাউস গ্যাসের তালিকায় কার্বন ডাই-অক্সাইড সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও বর্তমান বিশ্বের জলবায়ু সংকটের নেপথ্যে এক নতুন ‘অদৃশ্য ঘাতক’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে মিথেন গ্যাস। গত ৫ জুন ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ উপলক্ষে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)-এর অফিসিয়াল নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এই ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।

ইউএনইপি-এর আন্তর্জাতিক মিথেন নিঃসরণ মানমন্দিরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আন্দ্রেয়া ক্যালকান এই নিবন্ধে জানিয়েছেন, বর্তমান বিশ্বের উষ্ণায়নের জন্য প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দায়ী এই মিথেন গ্যাস। আর কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় মিথেন বায়ুমণ্ডলে স্বল্পমেয়াদে প্রায় ৮০ গুণ বেশি দ্রুত তাপ শোষণ করতে সক্ষম। ফলে পৃথিবী যে গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে, তা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য এক নতুন ও ভয়াবহ হুমকির নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্দ্রেয়া ক্যালকানের নিবন্ধটি বিশ্বকে এক সতর্কবার্তা দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় মিথেনকে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর মধ্যে ‘ছোট ভাই’ বা কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হতো। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। বর্তমানে ৩০টিরও বেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পাইপলাইন, বিশাল ল্যান্ডফিল এবং শিল্পকারখানা থেকে নির্গত মিথেনের বিশাল মেঘ শনাক্ত করা হচ্ছে।

ক্যালকান জানান, গত পাঁচ বছরে তারা সারা বিশ্বে ৫ হাজারেরও বেশি ‘মিথেন এলার্ট’ বা সতর্কতা পাঠিয়েছেন। তিনি তার নিবন্ধে আলজেরিয়ার একটি তেল ক্ষেত্রের উদাহরণ টেনেছেন, যেখান থেকে বছরের পর বছর ধরে মিথেন নির্গত হচ্ছিল, যা প্রতি বছর ৫ লাখ গাড়ির সমপরিমাণ তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে দিচ্ছিল। অর্থাৎ, একটি ছোট লিকেজও কতটা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, তা আমাদের কল্পনার বাইরে।

নিবন্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, মানবসৃষ্ট মিথেন নিঃসরণের ৬০ শতাংশই আসে কৃষি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাত থেকে। পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, তেল-গ্যাস শিল্পের চেয়ে এই খাতগুলো অনেক বেশি জটিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মিথেন বায়ুমণ্ডলে দীর্ঘস্থায়ী না হলেও স্বল্প সময়ে এটি যে পরিমাণ তাপমাত্রা বাড়ায়, তা কার্বনের চেয়ে ভয়াবহ। আমাদের শহরের ল্যান্ডফিলগুলোর বর্জ্য পচে যে মিথেন উৎপন্ন হচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কার্বন কমিয়ে খুব বেশি লাভ হবে না।

বাংলাদেশে ধান চাষের পদ্ধতি এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মিথেন নিঃসরণের বড় কারণ। বিশেষজ্ঞের মতে, এখানে প্রযুক্তিগত সমাধানের চেয়েও প্রয়োজন সরকারি নীতিমালা এবং সচেতনতা। স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং বর্জ্য থেকে মিথেন সংগ্রহের প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে বাংলাদেশ এই ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

জ্যেষ্ঠ কৃষি গবেষক ড. এস এম হেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ধান চাষ থেকে মিথেন নিঃসরণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পানির নিচে ধান চাষের পদ্ধতি মিথেন তৈরির আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। তবে বর্তমানে ‘অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রায়িং’ বা পর্যায়ক্রমে জমি শুকানোর পদ্ধতির মতো জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা মিথেন নিঃসরণ অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারি।

তেল ও গ্যাস শিল্পে মিথেন নিঃসরণ কমানোকে বিশেষজ্ঞরা ‘লো-হ্যাংগিং ফ্রুট’ বা অপেক্ষাকৃত সহজলভ্য সমাধান হিসেবে দেখেন। জ্বালানি নিরাপত্তা বিশ্লেষক প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, মিথেন মূলত প্রাকৃতিক গ্যাসই। পাইপলাইনের লিকেজ মেরামত করলে একদিকে পরিবেশের ক্ষতি কমে, অন্যদিকে কোম্পানির অপচয় রোধে মুনাফাও বাড়ে। অথচ প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রতিষ্ঠান তা এড়িয়ে যায়।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

সন্ধ্যার মধ্যে ১০ জেলায় ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির আভাস

লঘুচাপের প্রভাবে দেশজুড়ে বৃষ্টির আভাস, কয়েক বিভাগে হতে পারে ভারী বর্ষণ

কুয়েতে আরও ২,১৯৩ জনের নাগরিকত্ব বাতিল

পরিবহন শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবায় ডিএমপির ‘পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্প’

দেশের ১০ জেলায় চালু হচ্ছে নতুন আইসিইউ, কমবে রাজধানীর হাসপাতালের চাপ

ফরিদপুরে ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু

কার্বনের ৮০ গুণ গতিতে পৃথিবীকে পুড়িয়ে মারছে যে গ্যাস

মধ্যরাতের মধ্যে ১৭ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৭৯৬ রোগী

দেশীয় তৈলবীজে ভোজ্যতেল উৎপাদনে ১০ বছর পর্যন্ত কর অব্যাহতি

টঙ্গী ফ্লাইওভারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ২