
প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কানাডার সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) কানাডার রাজধানী অটোয়ায় কানাডিয়ান ফুড ইনস্পেকশন এজেন্সির (সিএফআইএ) কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. পার্থি মুথুকুমারাসামি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
প্রতিনিধি দলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং উপপরিচালক মো. শরিফুল হক উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাণিস্বাস্থ্য, ভেটেরিনারি সেবা, পশুখাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, রোগ নজরদারি, গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) ব্যবস্থা বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ ছাড়া প্রাণিজ পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কারিগরি সহযোগিতা বৃদ্ধি, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আধুনিক পরীক্ষাগার ও খাদ্য পরিদর্শন ব্যবস্থা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।
বৈঠকে সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে কানাডিয়ান ফুড ইনস্পেকশন এজেন্সির কারিগরি সহযোগিতা বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
সিএফআইএর মহাপরিচালক ড. পার্থি মুথুকুমারাসামি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাণিস্বাস্থ্য এবং নিয়ন্ত্রক সক্ষমতা উন্নয়নে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। ভবিষ্যতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ প্রাণিসম্পদ ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।