ঢাকামঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. নিরাপদ খাদ্য
  3. লাইফস্টাইল

বিশ্বের সপ্তম বৃহৎ উৎপাদক হয়েও কেন আম আমদানি করে বাংলাদেশ?

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ জুলাই ২০২৬, ১:৪৭ বিকাল

Link Copied!

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ আম উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ প্রতি বছর বিদেশ থেকে আম আমদানি করে। বছরে ২৪ থেকে ২৬ লাখ টন আম উৎপাদন হলেও সারা বছর উচ্চ আয়ের ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ এবং দেশীয় আমের অফ-সিজনে বাজার সচল রাখতে মূলত বিদেশি আম আমদানি করা হয়।

বিশ্বের আম উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। দেশের অভ্যন্তরীণ আমের বাজারের আকার প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা। তবুও রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, উত্তরা ও বায়তুল মোকাররম এলাকার বিভিন্ন সুপারশপ ও কাঁচাবাজারে সারা বছরই থাইল্যান্ড, ভারত, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের আম বিক্রি হতে দেখা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে আম আমদানি হয়েছিল ৩৮ দশমিক ৩ টন। পরের অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪৩ টনে। তবে এরপর আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি হয় ১৪১ টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ২৯ টন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাত্র ৪ দশমিক ৮৭ টন। তবে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে আবারও আমদানি বেড়ে ৩৭ দশমিক ৫ টনে পৌঁছেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে থাইল্যান্ড, ভারত, অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ থেকে আম আমদানি করা হলেও উচ্চ শুল্ক ও বিমান পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমদানির পরিমাণ আগের তুলনায় কমেছে।

আমদানিকারক মো. আবদুল মানিক বলেন, আগে প্রতি কেজিতে প্রায় ৪৫ টাকা শুল্ক ও ৭০-৮০ টাকা বিমান ভাড়া থাকায় আমদানি সহজ ছিল। বর্তমানে শুল্ক বেড়ে প্রায় ৫০০ টাকা এবং বিমান ভাড়া প্রায় ৩০০ টাকা হওয়ায় আমদানি ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফলে শুধুমাত্র উচ্চ আয়ের একটি সীমিত শ্রেণির ক্রেতাই বিদেশি আম কিনতে পারছেন।

ইউনিমার্টের গুলশান-২ শাখার বিক্রয় প্রতিনিধি মোহাম্মদ লিমন জানান, স্থানীয় আমের মৌসুম শুরু হলে বিদেশি আমের চাহিদা অনেক কমে যায়। তবে মৌসুম শেষে আবার আমদানি বাড়ে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার R2E2, ভারতের কাটিমন এবং থাইল্যান্ডের বানানা ম্যাঙ্গো ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয়। এর মধ্যে R2E2 প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং কাটিমন প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গুলশান-২ কাঁচাবাজারের ফল ব্যবসায়ী কবির হোসেন জানান, থাইল্যান্ডের জাম্বু, চেরি ও সুইট ম্যাঙ্গোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এসব আমের দাম প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। তার দোকানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কেজি আম বিক্রি হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যান গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সরোফ উদ্দিন বলেন, অফ-সিজনে ভোক্তাদের চাহিদা পূরণে আমদানিকৃত আম ভূমিকা রাখলেও স্বাদ ও মানের দিক থেকে বাংলাদেশের আমের সঙ্গে বিদেশি আমের তুলনা হয় না। তিনি বলেন, স্থানীয় আম না থাকায় অনেক ভোক্তা সহজলভ্যতার কারণে আমদানিকৃত আম কিনে থাকেন।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার জেজুনের

হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-নার্স সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সময়মতো ন্যায্যমূল্যে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকায় পদ্মা ব্যারাজ, বদলে যাবে ১৯ জেলার চিত্র?

বাইন্যান্সের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি, নেপথ্যে কারা?

শুঁটকিতেও মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক: শীর্ষে লইট্টা ও চিংড়ি

যুদ্ধে বিপর্যস্ত কৃষ্ণসাগর: সাড়ে ৪ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জীবন বাঁচাতে তরুণদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর প্রশিক্ষণ

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু

কৃষকের কাছে সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছানোর তাগিদ কৃষিমন্ত্রীর

Tourism Fair Concludes with Tk 43 Crore in Business Over Three Days

তিন দিনে ৪৩ কোটি টাকার ব্যবসা, শেষ হলো পর্যটন মেলা