
আশ্বিন মাস ঋতুর শরৎকাল হলেও এবার গাইবান্ধাজুড়ে বইছে চৈত্রের মতো প্রচণ্ড দাবদাহ। টানা কয়েক দিনের প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলার চরাঞ্চলসহ গ্রামাঞ্চলে ঘুরে দেখা যায়-তীব্র গরমের ফাঁদে পড়ে অস্থির মানুষেরা ‘ঘাম ঝরা’ শরীর নিয়ে হাপাচ্ছেন।
চরাঞ্চলসহ সর্বত্র খা খা অবস্থা বিরাজ করছে। প্রচণ্ড গরমে অনেকে ছায়াঘেরা স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন, কেউবা কোমল পানীয়, শরবত ও আইসক্রিম খেয়ে স্বস্তি খুঁজছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, রোদে শুকিয়ে যাচ্ছে রোপা আমনের খেত, বাসা-বাড়ি ও পথঘাটও যেন দাউ দাউ করে পুড়ছে।
অসহনীয় গরমে কর্মজীবী মানুষেরও নাভিশ্বাস। অফিস-আদালতের কর্মীরা ঠিকভাবে কাজ করতে পারছেন না, বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবীরাও। মাঠে কৃষকদের কাজ থমকে আছে, সিএনজি, অটোরিকশা ও ভ্যান চালকেরাও গরমে যাত্রী না পেয়ে সমস্যায় পড়েছেন।
গরমে বেড়েছে নানা রোগবালাই। স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সর্দি, জ্বর, কাশি, মাথাব্যথা ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আরিফ হাসান বলেন, তীব্র তাপদাহে পানি স্বল্পতা ও হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা রয়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের খুব জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
রিকশা চালক মেহেদী হাসান জানান, “তীব্র গরম আর রোদে গাড়ি চালানো দায় হয়ে পড়েছে। তবুও জীবিকার তাগিদে রিকশা চালাচ্ছি। কিন্তু অসহনীয় গরমে যাত্রীও পাওয়া যাচ্ছে না।”
এদিকে, প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে ব্যবসা বেড়েছে কনফেকশনারি দোকানিদের। পানীয়, শরবত, দই ও ঠান্ডা খাবারের দোকানে ভিড় করছে গরমে নাজেহাল মানুষ।
গাইবান্ধার মানুষ এখন এক পশলা বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুনছে। তাদের আশা, প্রকৃতির বৃষ্টি-স্নিগ্ধতায় স্বস্তি ফিরবে দাবদাহ কবলিত জনজীবনে।