
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আগামী চার দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা আবহাওয়ার আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানান, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত পৌঁছেছে। মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। আগামী ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগামী দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস:
বুধবার (২৩ জুলাই)
ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রায় তেমন পরিবর্তন হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই)
ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহীর অনেক স্থানে বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, রাতের তাপমাত্রা থাকবে প্রায় অপরিবর্তিত।
শুক্রবার (২৫ জুলাই)
খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক এলাকায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেটের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। দিন-রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমবে।
শনিবার (২৬ জুলাই)
খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে। সারাদেশে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাস
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্ধিত পাঁচ দিনেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নদী তীরবর্তী ও পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে কৃষি, মৎস্য, পরিবহন এবং জনস্বাস্থ্য খাতেও আগাম প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।