
তামাক ও সিগারেট বিক্রিতে নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করে আইন বাস্তবায়ন, করফাঁকি ও চোরাচালান রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরস্থ ফার্স হোটেল-এর সভা কক্ষে এইড ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট-এর সহযোগিতায় “স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের তামাক নিয়ন্ত্রণে নির্দেশিকা বাস্তবায়নের সফলতা ও চ্যালেঞ্জ: অভিজ্ঞতা বিনিময়” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সমন্বয়ক জনাব সাইফুদ্দিন আহমেদ।
সভায় আলোচকরা জানান, স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী তামাক ও সিগারেট বিক্রিতে লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক হলেও অধিকাংশ বিক্রেতার কোনো লাইসেন্স নেই। ফলে তারা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করছে এবং অনেক স্থানে অবৈধ সিগারেট বিক্রি করছে। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি চোরাচালান ও কর ফাঁকি বাড়ছে।
উল্লেখ করা হয়, ইতোমধ্যে ৪৩টি পৌরসভায় ৪,১৫৫টি লাইসেন্স ইস্যু করে সরকার ৮৩ লাখ ২০ হাজার টাকা রাজস্ব পেয়েছে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পেয়েছে ২০ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার তামাক/সিগারেট বিক্রেতা থাকায়, সবাইকে লাইসেন্সের আওতায় আনা গেলে প্রায় ৩০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে বলে সভায় জানানো হয়।
সভায় আলোচনায় অংশ নেন, মো: মাহমুদুল হাসান, এনডিসি, মহাপরিচালক, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, মোঃ আখতারউজ-জামান, মহাপরিচালক, এনটিসিসি (যুগ্ম সচিব), স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মোহাম্মদ হামিদুর রহমান খান, সাবেক সিনিয়র সচিব, ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস, জনস্বাস্থ্য নীতি বিশ্লেষক এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন।
সভায় শাগুফতা সুলতানা, প্রকল্প পরিচালক, এইড ফাউন্ডেশন, এলজিআই গাইডলাইন বাস্তবায়নের বর্তমান চিত্র নিয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার আবু নাসের অনীক।
সভায় বক্তারা বলেন, তামাক বিক্রেতাদের নিবন্ধনের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে একদিকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, অন্যদিকে চোরাচালান ও কর ফাঁকি রোধ করে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।