
২০৪০ কিংবা ২০৫০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে ই-সিগারেটের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিমালার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে আয়োজিত ডাব্লুউবিবি ট্রাস্ট ও তামাক বিরোধী জোট (বাটা) আয়োজিত ৬ষ্ঠ জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ ওয়ার্কশপে তিনি এ আহ্বান জানান।
সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন বলেন, একসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার বিষয়টি অনেকের কাছে অসম্ভব মনে হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে নানা সমালোচনা ও উপহাসও হয়েছিল। তবে সরকারের সময়োপযোগী আইন ও উদ্যোগের কারণে বর্তমানে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, সমাজ পরিবর্তনের মূল শক্তি হলো মানুষের গঠনমূলক চিন্তা, যা পরবর্তীতে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর আইন ও তার বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে ‘ই-সিগারেট’
ওয়ার্কশপে তিনি বলেন, দীর্ঘ দুই দশকের তামাকবিরোধী আন্দোলনের পর এখন তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ই-সিগারেট বা ভেপিং। ডিজিটাল এই নেশা দ্রুত তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনই কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ই-সিগারেট ভবিষ্যতে বড় সামাজিক ও স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করবে। এজন্য দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থার প্রস্তাব
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটিগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে কেন্দ্রীয় অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও দেন সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হলে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অগ্রগতি সহজে পর্যবেক্ষণ করা যাবে এবং মাঠপর্যায়ে জবাবদিহিতা বাড়বে।
এ সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে তামাকবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতিও বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।