
হিমালয়–কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে হিমেল বাতাসে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। রাতভর ঘন কুয়াশা আর উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা হিমশীতল বাতাসে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। তীব্র শীতে জেলার তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি থেকে কমে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নেমে গেছে।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসে সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৯ শতাংশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশা ও হিমশীতল বাতাসের কারণে জেলার সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। ভোর থেকেই জীবিকার তাগিদে কাজে বের হলেও কনকনে শীতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন।
পাথর শ্রমিক মিজানুর রহমান বলেন, “প্রতিদিন সকালে বরফ গলা ঠান্ডা পানিতে নেমে পাথর তুলতে খুব কষ্ট হয়। আজ তো মনে হচ্ছে হাত-পা বরফ হয়ে যাচ্ছে। তবু পরিবারের কথা ভেবে কাজ থামানো যায় না।”
এদিকে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। শীতজনিত সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল একই সময়ে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।