
দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। হিমালয় অঞ্চল থেকে বয়ে আসা হিমশীতল বাতাসের প্রভাবে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৩ শতাংশ বলে নিশ্চিত করেছেন তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায়। আগের দিন একই সময়ে তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সন্ধ্যা ও রাতেই এখন বেশি ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। ভোরে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মিষ্টি রোদের কারণে শীত কিছুটা কমে এলেও দুপুর ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে। এরপর আবার হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করলে শীত বাড়তে থাকে।
শীতের মাঝেও জীবিকার তাগিদে কাজে ফিরেছেন নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা। চা বাগান, খনি এলাকা ও নদীঘাটে সকাল থেকেই শ্রমিকদের স্বাভাবিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ভ্যানচালক, রিকশাচালক ও দিনমজুররা বলছেন, সকালের রোদ থাকায় কাজ কিছুটা আরামদায়ক হয়েছে।
এদিকে, শীতের প্রকোপ বাড়ায় শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বাড়ছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত সপ্তাহের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। বিশেষ করে নিউমোনিয়া, হাঁপানি ও সর্দি-কাশির রোগী বেশি আসছেন।
আবহাওয়া কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানিয়েছেন, হিমালয় ঘেঁষা অঞ্চল হওয়ায় তেঁতুলিয়ায় দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় শীত আগে নেমে আসে এবং তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে। সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।